৬ কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি দখল করে জামায়াত আমিরের বহুতল ভবন নির্মাণ – বর্ণমালা টেলিভিশন

৬ কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি দখল করে জামায়াত আমিরের বহুতল ভবন নির্মাণ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ October, ২০২৬ | ৬:০২ 64 ভিউ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি দখল করে তার ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ করে ফেললেন ইউনিয়ন জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে। সরকারি জমিখেকো জামায়াত নেতার নাম মো. আবু তালেব হোসাইন। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে তিন তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক সংবাদে এ তথ্য জানা গেছে। জামায়াত নেতা আবু তালেব কুমারখালী উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আফিল উদ্দীনের ছেলে এবং চরসাদিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। জানা যায়, আবু তালেব উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মৌজায় অবস্থিত সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত (খ-তফসিলভুক্ত) প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল করে নিয়মনীতি অমান্য করে পাকা তিনতলা ভবন নির্মাণ করছেন। ইতিমধ্যে একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন তিনি। এলাকাবাসী জানান, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলতি বছরের মে মাস থেকে বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা আবু তালেব। জানা যায়, এই জমি নিয়ে একবার মামলা হয়েছিল, পরে জমিটি খাস বলে রায় দেয়া হয়। এরপর আফিল উদ্দীনের উত্তরসূরীরা সেই জমি দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, ইনটা চরের ভেতরে সব জমি খাস। একটা জমিও খাস ছাড়া নেই। সব এক রেকর্ড বা দুই রেকর্ড। কৃষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, জমিটি মূলত খাস। আমরা ছোটবেলা থেকে এমন দেখে আসছি। কিন্তু ওনি লোকজন নিয়ে এসে কাজ করা শুরু করেছে। অথচ খাস জমিতে বাড়ি করা অবৈধ। ভূমি অফিসের তথ্যমতে, গোবিন্দপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের আরএস ৬৪ নম্বর দাগে সরকারের খ তফসিলভুক্ত প্রায় ২ একর ৮২ শতাংশ জমি রয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। সেই জমি নিজের দাবি করে ২০১৮ সালে প্রথম কুষ্টিয়ার কুমারখালি জজ আদালতে রেকর্ড সংশোধনীর মামলা করেন চরসাদিপুর ইউনিয়ন জামায়াত আমির আবু তালেব হোসাইন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, বৈধ কাগজ না থাকায় ২০২৪ সালের ৫ই মে দেওয়ানি মামলা নম্বর ১৯৮/২০২৮ বিনা খরচায় খারিজ করে দেন সহকারী জজ মো. মেহেদী হাসান। মামলা খারিজের পর ফের আপিল করেন ওই জামায়াত নেতা। আপিল নম্বর ১১৭/২৪। বর্তমানে মামলটি বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে বাড়ির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আবু তালেব। এই বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তালেব হোসাইন জমিটি নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে বলেন, এটাতে আমার আরএস রেকর্ড হয়নি। আমার বিএস রেকর্ড আছে। এটা বিচারাধীন এখন। আরএস সংশোধনীর জন্য আমরা মামলা করেছি। মামলা চলতেছে। মামলা চলমান অবস্থায় কোন এখতিয়ারে বাড়ির কাজ করছেন জমিতে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তেড়ে আসেন জামায়াত নেতা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানিয়েছেন, খাস জমিতে বাড়ির নির্মাণের সুযোগ নেই। জায়গাটির মালিকানা ও আইনি অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসন অবগত। জনবল সংকটের কারণে মাপের কাজ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। শিগগিরই আনইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা