নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জুনে সারাদেশে ৩৩৩ নারী-কন্যাশিশু নির্যাতিত: শীর্ষে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা
“আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা আমি সমর্থন করি না”, সাক্ষাৎকারে এম সাখাওয়াত হোসেন
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বিএনপির হজম করা কঠিন হবে, অকল্পনীয় অনেক ব্যাপার ঘটতে পারে: সাবির মুস্তাফা
মবসন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে হাসনাতই সেরা: অনুসন্ধানে উঠে এলো মুখোশের আড়ালের চিত্র
এই সংসদ একটি পরাশক্তির মধ্যস্থতায় গড়ে ওঠা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের সংসদ: জমিয়ত নেতা ইউসুফী
বান্দরবানে কেএনএফ ক্যাম্পে সেনা-জেএসএস যৌথ হামলা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৪ সেনা নিহতের দাবি
বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফ সীমান্ত, আতঙ্ক
মার্কিন চুক্তি ও স্বার্থরক্ষায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস: আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে উচ্চমূল্যে গম আমদানির অনুমোদন
আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুর থেকেও ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গতকাল অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গম আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫২ কোটি ৪০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
সরকারি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় ধারাবাহিকভাবে গম আমদানি করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে উচ্চমূল্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি প্রসঙ্গে এর আগে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, উচ্চমূল্যের পেছনে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রপ্তানি বাজার রক্ষা করা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের ৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাজারকে রক্ষা করা, যা এ বছর শেষে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এছাড়া মার্কিন গমে প্রোটিনের পরিমাণ ও গুণগত মান রাশিয়ান গমের চেয়ে ভালো, তাই দাম একটু বেশি- দাবি করেন তিনি।
এর আগে চারটি চালানে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি গম দেশে এসেছে। প্রথম চালানে ৫৬ হাজার ৯৫৯ টন, দ্বিতীয় চালানে ৬০ হাজার ৮০২ টন, তৃতীয় চালানে ৬০ হাজার ৮৭৫ টন এবং চতুর্থ চালানে ৬০ হাজার ৯৫০ টন গম দেশে আসে। চলতি বছরও একই ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও কয়েক দফায় গম আমদানি করা হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেও নিয়মিত গম সংগ্রহ করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, আর্জেন্টিনা ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাজারদর, গমের মান ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় আমদানি করা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবার গম কেনার মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এভাবে বারবার উচ্চমূল্যে মার্কিন পণ্য আমদানি নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ ভোক্তারা। এতে দেশের অর্থনীতিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান অর্থনীতিবিদরাও।
যদিও সরকারের দাবি এগুলো দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য সুবিধা ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য, তবুও সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্য এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
উচ্চমূল্যের গম আমদানির ফলে আটা-ময়দা, রুটি-বিস্কুট, বিদ্যুৎ বিলসহ দৈনন্দিন খরচ বাড়ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।
সরকারকে এখন বিকল্প সস্তা উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন, যাতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।