নিউজ ডেক্স
আরও খবর
১৫ অগাস্টের কর্মসূচির চেষ্টা করায় বাংলাদেশ জাসদের কার্যালয় উচ্ছেদ করছে সরকার
রাশিয়া থেকে গম আমদানি ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ, ব্যাখ্যা দিলো রুশ দূতাবাস
শেখ হাসিনার আমলে নির্মিত থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ বিএনপি সরকারের
১,৮৫০ কোটি টাকার এলএনজি কেনাকাটা, কমিশন-বাণিজ্যের ঝুঁকি কতটা
এবার ‘পিংক বাস’ নামে নতুন যাত্রা
‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একান্তই ভারতীয় আদালতের বিষয়, ভারত সরকারের কিছু করার নেই’, অবস্থান স্পষ্ট দিল্লির
বাদামতলী ঘাট: আওয়ামী লীগ আমলে ছিল সরকারি ফি ১০০ টাকা, এখন বিএনপি নেতাদের চাঁদা ২-৫ হাজার, নিচ্ছে পুলিশও
ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী: দ্রব্যমূল্য কমাতে সময় লাগবে, ছয় মাসে দৃশ্যমান ফল চাওয়া ঠিক নয়
দ্রব্যমূল্য নিয়ে দেশের মানুষ সন্তুষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য কমানো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান ফলাফল পাওয়া যাবে– এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সিআইআই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।
দায়িত্ব পালনের ছয় মাসে বাজার ব্যবস্থাপনায় কতটা স্বস্তি এসেছে– এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্যে তিনি মোটেই সন্তুষ্ট নন। তবে দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্য একাধিক বিষয় একসঙ্গে কাজ করতে হয়।
তিনি বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ, কম জ্বালানি ব্যয়, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং কম লজিস্টিক ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন থেকে খুচরা বাজারে পণ্য পৌঁছানোর পথে যে ব্যয় হয়, অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে সেই ব্যয় কমবে। উৎপাদনের জন্য জ্বালানির নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় একসঙ্গে কাজ করলেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি হবে।
দ্রব্যমূল্য কমানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এটি কোনো ক্যালেন্ডারের নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে ঠিক করে দেওয়ার বিষয় নয়। উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ ও ঋণের সুদ কমানো, জ্বালানি ব্যয় কমানো, শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহনে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে গ্যাস সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ ছিল। নতুন একটি এফএসআরইউ যুক্ত করতে দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ শুধু টার্মিনাল নির্মাণ করলেই হবে না, সেটিকে মূল গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করতে সাবসি পাইপলাইনও নির্মাণ করতে হয়। ইতোমধ্যে সরকার নতুন একটি এফএসআরইউ নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানো যায়, সেজন্যও সরকার কাজ করছে। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দ্রব্যমূল্যকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে বাজারে স্থিতিশীলতার উদাহরণ হিসেবে আগের বছরগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক একটি চার্ট দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এটা কারো একার কৃতিত্ব নয়। আল্লাহর বিশেষ মেহেরবানি, ভোক্তাদের শৃঙ্খলা এবং উৎপাদকদের একনিষ্ঠতার কারণে আমরা দ্রব্যমূল্য একটি স্থিতিশীলতার মধ্যে রাখতে পেরেছি।
সবজির দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি পর্যন্ত হওয়াকে কীভাবে স্থিতিশীল বলা হচ্ছে– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবজির উৎপাদন অনেকটাই মৌসুমি। সারা বছর একই পণ্য একই দামে সরবরাহের জন্য দেশে এখনো বৈজ্ঞানিক ও পরিকল্পিত গ্রিনহাউজ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
পেঁয়াজের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে ৪০ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় বেশি। তারপরও বছরের কোনো কোনো সময়ে মৌসুমি ব্যবধানের কারণে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দেয়।
এই মৌসুমি ব্যবধান কমাতে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে মৌসুমি ঘাটতি কমাতে এ বছর চুক্তিভিত্তিক কৃষিসহ বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল পেতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য কমানো কিংবা বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফেরানো তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপের বিষয় নয়, এর সঙ্গে উৎপাদন, জ্বালানি, ঋণ, অবকাঠামো, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার মতো বহু বিষয় জড়িত। এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব।
ভারতের সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া সীমান্ত হাটগুলো চালু এবং নতুন সীমান্ত হাট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে ফলাফল জানানো যাবে।
দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাণিজ্য যত বাড়বে, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পক্ষের জন্য তত বেশি লাভজনক হবে।
সিআইআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।