পাচার চক্রের মূল দুই সদস্য শনাক্ত, মামলার প্রস্তুতি – বর্ণমালা টেলিভিশন

পাচার চক্রের মূল দুই সদস্য শনাক্ত, মামলার প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ মার্চ, ২০২৬ | ৮:৩৪ 22 ভিউ
ভূমধ্যসাগরের নোনাজল থেকে স্বজন হারানোর শোক ও কান্না ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে। লিবিয়া থেকে ইউরোপে ১৮ বাংলাদেশির স্বপ্নযাত্রা হারিয়ে গেছে সাগরে। রাবারের নৌকায় করে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসের দিকে নেওয়া হচ্ছিল তাদের। মৃত ব্যক্তিদের দুদিন নৌকায় রেখে পরে তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশিসহ ২৬ জনকে রাখা হয়েছে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে। তাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অসুস্থ। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে যাদের ইউরোপে অবৈধ পথে নেওয়ার জন্য লিবিয়ায় জড়ো করা হয়েছিল, এতে ভূমিকা রাখা দুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের একজন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঈদগাঁও এলাকার আজিজ মিয়া। আরেকজন ছাতক উপজেলার দুলাল মিয়া। দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি ১২ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে আজিজ ও দুলাল। সূত্র জানায়, তারা দুজন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শনিবার বেঁচে ফেরা একই নৌকার ২১ বাংলাদেশি গ্রিসের কোস্টগার্ডকে জানান, ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন। ১৮ বাংলাদেশি ছাড়া বাকি চারজন বিভিন্ন দেশের নাগরিক। নৌকাটি পথ হারিয়ে সাগরে ছয় দিন ভাসছিল। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। বাংলাদেশ মিশন ইতোমধ্যে গ্রিসের কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহযোগিতা এবং নিহতদের মরদেহের সন্ধান পেলে ফিরিয়ে আনার উপায় খোঁজা হচ্ছে। সিআইডির তথ্য অনুয়ায়ী, মানব পাচারের ৩১৬টি মামলা তদন্তাধীন। এর মধ্যে লিবিয়া-সংক্রান্ত মানব পাচার মামলা ৩১টি। গত এক বছরে ১২৩টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সারাদেশে মানব পাচার-সংক্রান্ত মামলা হয়েছে চার হাজার ৪২৭টি। এর মধ্যে ৯০৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব মামলায় আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিভিন্ন মেয়াদে এক হাজার ৭৭৬ আসামির সাজা দেন আদালত। যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে ১০০ আসামির। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একেকটি ঘটনার পর মামলা ও গ্রেপ্তারের পরও বন্ধ হচ্ছে না মানব পাচার। বিদেশে বসেই দালালরা তাদের নির্ধারিত লোকের মাধ্যমে ইউরোপ যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে। ভালো চাকরির লোভ দেখানো হয়। আবার অনেক পরিবারে নিজেরাই দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বজনের অবৈধভাবে বিদেশে পাঠান। সিআইডির মানব পাচার প্রতিরোধ ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা বলেন, গ্রিসে যাওয়ার পথে ১৮ বাংলাদেশি মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দূতাবাস। যেসব দালাল তাদের নিয়েছে তাদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। ভূমধ্যসাগরে নিহতদের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুরের পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজারের একজন রয়েছেন। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের বাসিন্দাও রয়েছেন। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া মাঝপাড়া গ্রামের দুলন মিয়ার তিন সন্তানের মধ্যে নাঈম আহমেদ (২৪) সবার ছোট। গ্রামে বাবার চায়ের দোকানে সহযোগিতা করতেন তিনি। তবে এলাকার আরও কয়েকজনের সঙ্গে গ্রিসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৭ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়েন এই তরুণ। এ জন্য দুলন মিয়া ১৬ শতকের ঘর-ভিটা বন্ধক রাখেন। নাঈমকে গ্রিসে পাঠানোর জন্য ১৮ লাখ টাকা দালালকে দিয়েছেন তিনি। গতকাল সঙ্গে কথা বলার সময় দুলন মিয়া বলেন, ছেলেও গেল, বাড়িঘরও হারালাম। ঋণ শোধ করে ভিটেমাটি উদ্ধার করার মতো অবস্থা আমার নেই। ছেলের লাশও পেলাম না। তিনি আরও বলেন, যাওয়ার সময় ছেলের হাতে ৭০০ ডলার দিই। ২৫ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল সেট কিনে দিয়েছি। বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পর থেকে একবারও ছেলের সঙ্গে কথা হয়নি। তবে অন্যের মোবাইল দিয়ে মেসেজ পাঠাত। খাবার ও পানির কষ্টের কথা বলত। দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানাত। ২০ মার্চ সর্বশেষ খুদে বার্তা পাঠায়। নৌকায় চড়ে ইউরোপের উদ্দেশে সাগর পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন নাঈমের মতো আরও অনেক বাংলাদেশি। দালালরা অনেক বড় স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত নিয়ে যায়। সাগর পথে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। নিহত কারও লাশ মেলেনি। সাগরে নিথর দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার বেঁচে ফেরা ২১ বাংলাদেশি গ্রিসের কোস্টগার্ডকে জানান, ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন। নৌকাটি পথ হারিয়ে সাগরে ছিল ছয় দিন। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, যে নৌকায় বাংলাদেশিদের লিবিয়া থেকে গ্রিসে নেওয়ার হচ্ছিল, তার চালক ছিলেন সুদানের এক নাগরিক। যাত্রা শুরুর আগে চালকের কাছে মানচিত্র ও জিপিএস দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এসব হারিয়ে ফেলায় দিগ্‌ভ্রান্ত হয়ে ৬ দিন নৌকা সাগরে ভাসতে থাকে। খাবার ও পানি সংকটের কারণে অনেকে মারা যান। এ ছাড়া লিবিয়ায় যেখানে তাদের রাখা হয় সেখানেও ঠিকঠাক খাবার দেওয়া হতো না। তাই আগে থেকে অনেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি বলেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। অনেকে ঝুঁকি জেনেও স্বজনদের পাঠান। কেউ কেউ দেখেন, পাশের বাড়ির একজন ইউরোপ গিয়ে পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। আবার অনেককে দালালরা টোপ দিয়ে থাকেন। এবারের ঘটনায় জড়িত দালালদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। নিহত এমন পাঁচটি পরিবারের সঙ্গে কথা হয় । জগন্নাথপুরের ইজাজুল হক, শায়েক আহমেদ, আমিনুর রহমানের পরিবার জনপ্রতি ১২ লাখ এবং মো. আলীর পরিবার ১৩ লাখ টাকা দালালকে দিয়েছে। সুনামগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, যেহেতু তারা বৈধ পথে যাননি, তাই সরকারিভাবে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। তবে আমরা স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করে তথ্য সংগ্রহ করতে, যাতে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জীবিত উদ্ধার হওয়া একজন জানান, একটি ছোট নৌকায় তারা ৪৩ জন ছিলেন, যার মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। তাদের একটি বড় নৌকায় পাঠানোর কথা বলে শেষ মুহূর্তে ছোট নৌকায় তুলে দেয় পাচারকারীরা। বিদেশের মাটিতে অপহরণের শিকারও হতে হয় অভিবাসীদের। তাদের বন্দিশালায় আটকে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপণ। অনেক ক্ষেত্রে হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না মানব পাচারকারীরা। ২০২০ সালের মে মাসে লিবিয়ার মিজদা শহরে বন্দি শিবিরে ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণে বেঁচে যান আরও ১২ জন বাংলাদেশি। ঘটনাটি সে সময় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। জানা যায়, ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে নিরীহ মানুষকে প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা। সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে যে দেশগুলোর মানুষ, বাংলাদেশ সেই তালিকায় প্রথম। অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে অন্তত ২০ হাজার ২৫৯ জন ইতালি প্রবেশ করেন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে এক হাজার ৩৫৮ জন গেছেন ইতালিতে। একই সময়ে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ গ্রিসে প্রবেশ করেছে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যেতে গিয়ে লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি রেখে অনেক বাংলদেশি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। তাদের জিম্মি করে দেশে থাকা পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এরপরও ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপের স্বপ্নে লিবিয়া যাওয়ার এই প্রবণতা থামছে না। একযুগে অন্তত ৭০ হাজার মানুষ সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে গেছে। ব্র্যাকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অবৈধভাবে যারা ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন তাদের বেশির ভাগ মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলার। তাদের ৬০ শতাংশের পরিবারকে স্থানীয় দালালরা ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছিল। কিন্তু ৮৯ শতাংশই চাকরি বা কোনো কাজ পায়নি। উল্টো নানা ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মানব পাচারের শিকার হয়ে বিপদে পড়া অনেককেই লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একটি হিসাবে দেখা গেছে, ২০২২ থেকে ২৫ সাল পর্যন্ত ৬ হাজার ২৬০ জন দেশে ফিরে আসেন। এর মধ্যে ২০২২ সালে ১৪৩ জন, ২০২৩ সালে ৬৪৬ জন, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৮ জন এবং গত বছরে ৩ হাজার ৪৬৩ জন। ঢাকা থেকে দুবাই-মিসর হয়ে লিবিয়া গেছেন সবচেয়ে বেশি মানুষ। এ ছাড়া ঢাকা থেকে ইস্তাম্বুল-দুবাই হয়ে লিবিয়া; ঢাকা থেকে কাতার হয়ে লিবিয়া; ঢাকা থেকে দুবাই-সিরিয়া হয়ে লিবিয়া এবং অল্প কিছু লোক ঢাকা থেকে সরাসরি লিবিয়া গেছেন। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে প্রবেশের পর কিংবা প্রবেশের সময় নির্যাতন, খুন, অপহরণসহ নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন মানুষ। এসব ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা হচ্ছে। গ্রেপ্তারও করা হয় দেশে থেকে চক্রের সদস্যদের। কিন্তু বিদেশে থাকা আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় মানব পাচার কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকা ডুবে ৮ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকার বিমানবন্দর থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। এ মামলায় সিআইডি এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন– মানব পাচার চক্রের সদস্য গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সুন্দরদী গ্রামের যুবরাজ কাজী, রাগদি গ্রামের কামাল, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার গুরু বারোরী ও মোতালেব মাতুব্বর। আসামি যুবরাজ কাজীর বাবা মোশারফ কাজী লিবিয়া প্রবাসী। তিনিও এ মামলার আসামি। মোশারফ মানব পাচার চক্রের অন্যতম হোতা। নিজের ছেলের নেতৃত্বে দেশে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন, যাদের কাজ মানুষকে ইতালির প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাঠানো। সূত্র জানিয়েছে, আটজনের মরদেহ তিউনিসিয়ায় ময়নাতদন্ত করে দেশটির পুলিশ। ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল রিপোর্টের তথ্য চেয়ে সিআইডি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের (এমএলএ) মাধ্যমে গত বছরের আগস্টে দেশটিতে আবেদন করেছে। এখনও সে প্রতিবেদন বাংলাদেশে আসেনি। এ ছাড়া মামলার কয়েকজন আসামি এখনও আত্মগোপনে। এসব কারণে মামলার চার্জশিট জমা দিতে দেরি হচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এসআই স্বপন মিয়া বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। দেশে আত্মগোপনে থাকা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মানব পাচার চক্রের সদস্যরা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে পরের বছর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ওই আটজনসহ অন্তত ১৫ জনকে লিবিয়ায় পাঠান। সেখান থেকে সাগরপথে ইতালিতে নেওয়ার সময় ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নৌকা ডুবে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালের মে মাসে তাদের মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০২০ সালে লিবিয়ায় ২৬ খুনের ঘটনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় ২৫টি মামলা করে ভুক্তভোগীদের পরিবার। এসব মামলায় আসামি ছিলেন ২২২ জন। তাদের মধ্যে ১৫৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পলাতক আসামিদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ দেয় তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলাগুলোর তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সংস্থাটি। গত এক দশক ধরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের সহায়তা ও পুনরেকত্রীকরণের কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে প্রাণহানি বা আটকের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। একসঙ্গে ২০-২৫ জন বাংলাদেশি মারা গেলে রাষ্ট্রের একটু তৎপরতা দেখা যায়। তারপর আবার সব আগের মতো। অথচ সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে নিয়মিতভাবে প্রথম, যেটি রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার। ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, সুদান ও ইরিত্রিয়ার মতো যুদ্ধ ও দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলো নয়, বাংলাদেশ প্রথম। অলিক স্বপ্নে আমাদের লোকজন এভাবে ইউরোপে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সব জেলার লোক কিন্তু এভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করে না। মূলত শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকার লোকজন এভাবে ইউরোপে যান। দালালরা এসব এলাকার অভিভাবক ও তরুণদের ভালো চাকরি আর ইউরোপের প্রলোভন দেখায়। সংকট সমাধানে সাধারণ মানুষ ও বিদেশগামীদের সবার আগে সচেতন হতে হবে। এরপর স্থানীয় দালাল ও মানব পাচার চক্রকে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালাতে হবে, অর্থের লেনদেন খুঁজে বের করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র রয়েছে লিবিয়া বা অন্য দেশে, তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে আন্তর্জাতিকভাবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিশ্বসেরা ট্যাংক রাশিয়ার টি-৭২, খোদ যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এলো ঘোষণা ইরানের শহীদ শিশুদের প্রতি শ্রদ্ধা: ই-বুক ও অডিওবুক বিতরণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানকে টোল দিতে চায় না মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ ইরানের সংরক্ষিত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায়, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো আইএইএ ‘কাউকে হতাশ করতে চাই না’ নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩ দুপুরের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আভাস ইরানের ৩৫ ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আ.লীগের বোঝা বিএনপির কাঁধে বজ্রধ্বনি শুনলেই যেতে হবে নিরাপদ আশ্রয়ে হাসিনা, জয় ও টিউলিপের দুর্নীতি অনুসন্ধানে ধীরগতি ২০২৬ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ দেখা যায়নি পরিচয় মিলেছে নিউ মার্কেটে গুলিতে নিহত যুবকের লুটেরাদের হাতেই কি ফিরবে ব্যাংক হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি সেই সাত বছরের শিশুর জামিন আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর ২৭ এপ্রিল: ইতিহাসের পাতায় আজ উজ্জ্বল ত্বক পেতে ডালিম ব্যবহার করবেন যেভাবে রাজধানীতে শতাধিক চোরাই মোবাইলসহ দুই চীনা নাগরিক গ্রেফতার