দেরিতে রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা আগামী অর্থবছর থেকে বছরের যে কোনো সময় রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পাওয়া যাবে করছাড়। এরপর যত দেরিতে রিটার্ন জমা দেবেন, তত বেশি জরিমানা দিতে হবে। আর বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতও পাওয়া যাবে না।
এছাড়া রিটার্নে উল্লেখিত স্বর্ণালংকার বিক্রি করলে দিতে হবে ‘মূলধনি কর বা গেইন ট্যাক্স’। করদাতাদের সুবিধার্থে বাড়তি করের টাকা ৬০ দিনে ব্যাংক হিসাবে ফেরত পাঠানো হবে। অবশ্য কমানো হচ্ছে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত। ভ্যাটের জাল বাড়াতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে বিএনআই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী, সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে মাসিক ২ শতাংশ হারে বিলম্ব সুদ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া কর নির্ধারণ প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসে। করদাতা বিনিয়োগজনিত কর থেকে বঞ্চিত হন। তবে করছাড় সুবিধা পেতে ও বিলম্ব সুদ এড়াতে দেরিতে রিটার্ন জমার কারণ উল্লেখ করে কর কর্মকর্তার কাছে আবেদন দিতে হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী/উপকমিশনার ২ মাস এবং যুগ্ম/অতিরিক্ত কমিশনার আরও ২ মাস সময় দিতে পারেন। তবে প্রতিবছর করদাতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এনবিআর প্রায়ই এই সময়সীমা বৃদ্ধি করে থাকে। যেমন চলতি অর্থবছরে ৪ দফায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন জমার সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছিল।
সূত্র জানায়, এ ধরনের অসঙ্গতি দূর করতে এবং করদাতাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করতে আগামী বাজেটে আয়কর আইনে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) যারা রিটার্ন জমা দেবেন, তারা পরিশোধিত করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি কম-সেই হারে করছাড় পাবেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন জমা দিলে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পাবে না করদাতা। তবে তাকে কোনো জরিমানাও দিতে হবে না। তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি-সেই হারে জরিমানা দিতে হবে। আর চতুর্থ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি-সেই হারে জরিমানা দিতে হবে। এই জরিমানা করের সঙ্গে যোগ হবে।
কর রেয়াত কমছে : সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বিমার প্রিমিয়ামসহ বর্তমানে ৯টি খাতে বিনিয়োগ করলে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পেয়ে থাকেন। মোট আয়ের দশমিক ০৩ শতাংশ; মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা-এই তিনটির মধ্যে যেটি কম, সেটি রেয়াত হিসাবে চূড়ান্ত কর থেকে বাদ দেওয়া হয়। আগামী বছর অনুমোদিত বিনিয়োগ সীমা ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা করা হয়েছে। এ হিসাবে, প্রতি এক লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা কম ছাড় পাবেন করদাতা।
অবশ্য বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের খাত একই থাকছে। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় করলেও কর রেয়াত সুবিধা পাওয়া যাবে। ডিপিএসের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ওপর এই করছাড় দেওয়া আছে।
স্বর্ণালংকার-ডিজিটাল মুদ্রাও মূলধন : বাজেটে করদাতার রিটার্নে উল্লেখিত স্বর্ণ বিক্রি করলে তার ওপর ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স আরোপ করা হচ্ছে। একজন করদাতা যেদিন থেকে আয়কর ফাইল খুলেছেন, সে সময় স্বর্ণের দাম যা ছিল, বর্তমানে বিক্রির সময় যে দাম পাবেন, করফাইল খোলার দামের থেকে বিক্রির দাম বাদ দিলে যে লাভ বা গেইন হবেন, তার ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এছাড়া স্বর্ণের বার, রৌপ্য, স্বর্ণালংকার, রৌপ্যালংকার, রত্ন-হীরা, ধাতব মুদ্রা, ডিজিটাল মুদ্রা, চিত্রকর্ম, এন্টিকস বিক্রি এবং ক্লাবের সদস্যপদ হস্তান্তর হতে অর্জিত অর্থকে মূলধন হিসাবে বিবেচনা করা হবে।
মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক : ভ্যাটের জাল বাড়াতে ৭ খাতে বিআইএন (ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে-ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি হিসাব খুলতে বা ঋণ নিতে হলে বিআইএন নিতে হবে। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে; মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মার্চেস্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে; বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ বা নবায়ন করতে; প্রতিষ্ঠানের নামে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ গ্রহণ করতে এবং বিআরটিএ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নিতে চাইলে বিআইএন নিতে হবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।