নিউজ ডেক্স
আরও খবর
এনসিটিবিতে দুর্নীতির পাহাড়: এক বছরে ২৭১১ কোটি টাকার মহালুটপাট
কোটা সংস্কারের পর বিসিএসে নারীদের নিয়োগে বড় পতন, প্রশ্নের মুখে সংস্কার
ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে মার খাননি দাবি করে আম্মার- ‘আমরা মাইর খাইনি, মাইর দিয়েছি’
যেসব কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ
২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ককটেল নিক্ষেপ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২২টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক চুরি
গুরু পাপে লঘু দণ্ড পুঁজিবাজারে, উৎসাহিত হচ্ছে কারসাজি চক্র
আসামে ভয়াবহ বন্যা: ৬৮ জনের মৃত্যু, ৭ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কোন সতর্কতা-আগাম প্রস্তুতি নেই বাংলাদেশে
ভারতের আসাম রাজ্যে চলতি মৌসুমের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এখনও ৪ থেকে ৭ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, শত শত গ্রাম প্লাবিত। পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট এই বন্যার পানি ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদী দিয়ে সিলেট সীমান্তের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তীব্র বন্যার ঝুঁকি তৈরি করেছে। অথচ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আগাম পূর্বাভাস বা জোরালো প্রস্তুতির খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
আসামের বন্যা পরিস্থিতি
আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ) ও অন্যান্য সূত্র অনুসারে, চারাইদেও, শিবসাগর, জোড়হাট, গোলাঘাট, নাগাঁওসহ উজানের জেলাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সর্বশেষ তথ্যে ৬ লাখের বেশি মানুষ এখনও প্রত্যক্ষভাবে আক্রান্ত, শতাধিক গ্রাম পানির নিচে। কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে, হাজার হাজার গবাদি পশু ভেসে গেছে।
বন্যার প্রধান কারণ অসম ও নাগাল্যান্ড-অরুণাচল প্রদেশে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত (স্বাভাবিকের ৪০০ শতাংশেরও বেশি)। ব্রহ্মপুত্র নদ ও তার উপনদীগুলো (যেমন দিকহু, ধানসিরি) বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলছে, ত্রাণ শিবিরে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে, তবে মৌসুম এখনও শেষ হয়নি।
এ ধরনের বন্যা আসামে বার্ষিক ঘটনা হলেও এবারের তীব্রতা দীর্ঘদিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় ও নদী ব্যবস্থাপনার অভাবকে দায়ী করা হচ্ছে।
সিলেটে ঝুঁকি বাড়ছে
আসামের পাহাড়ি ঢল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী হয়ে (বিশেষ করে সুরমা-কুশিয়ারা ব্যবস্থার মাধ্যমে) সিলেট অঞ্চলে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।
উজানে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকলে হাওর অঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
আগাম প্রস্তুতির অভাব
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার এই সম্ভাবনা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে যথাযথ আগাম সতর্কতা বা প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সতর্কবার্তা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় ও ব্যাপক প্রচারণার অভাব রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতায় সিলেট অঞ্চল বারবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান (যেমন বাঁধ মজবুতকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন) নিয়ে ধীরগতি চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজানের দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং আধুনিক আবহাওয়া পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করে দ্রুত সতর্কতা জারি করা জরুরি। সিলেট বিভাগের বাসিন্দাদের নিয়মিত নদীর পানির স্তর পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজ। বন্যা মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।