নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পুকুর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার, পানিতে ডোবার লক্ষণ মেলেনি
মাদারীপুরে পরিত্যক্ত ঘরে বিকট শব্দে ফাটল বোমা, এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক
বরিশালে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন: দিনে-রাতে ১০-১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন
মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখিয়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ কিশোর
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিবৃতি প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের
তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামে কৃষকবিদ্রোহ: গোডাউন ভেঙে নিল ১০ হাজার কেজি সার
কোটচাঁদপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের রামদার কোপে ভাই নিহত
রংপুরে চার খুন: ‘পুলিশ ভুল সুইচ চাপায় পানিতে সব ধুয়ে যায়, কোনো ষড়যন্ত্র নেই’—ডিবি
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবকের স্বজনদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, নিহতের বসতবাড়ির ছাদ পানি ঢেলে ধুয়ে সব প্রমাণ মুছে ফেলা হয়েছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে, ছাদ পরিষ্কারের উদ্দেশ্যে পানি ফেলা হয়নি; মূলত অসাবধানতাবশত মোটরের সুইচ চালু থাকায় ট্যাংকের পানি গড়িয়ে ছাদ ভিজিয়ে দিয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় আটক সিদ্ধার্থ দাসের স্বজনরা অভিযোগ তোলেন যে, নিহতদের ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।
অভিযুক্ত সিদ্ধার্থের বড় ভাই পার্থ দাস পুরো ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, সন্ধ্যার পর পুরো বাড়িটি অন্ধকারে ডুবে ছিল। ঠিক সেই সময়েই তিনি লক্ষ্য করেন ছাদের ওপর থেকে পানি নিচে গড়িয়ে পড়ছে। সেখানে মোতায়েন থাকা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের তিনি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, লাইটের সুইচ অন করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে মোটরের সুইচ চেপে ফেলায় পানির ট্যাংক উপচে ছাদ ভিজে গেছে।
পার্থের বক্তব্য অনুযায়ী, সেসময় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মীরা তাকে এই বিষয়টি অন্য কারো কাছে প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান। একই সাথে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘অভিযুক্তের ভাই’ বলে পরিচয় দেন।
এই পরিচয় পাওয়ার পরপরই পুলিশের লোকেরা তাকে অবিলম্বে সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে থাকা রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটিতে পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যদের অগোচরেই লাইটের সুইচের বদলে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যায়। ফলে পানির ট্যাংক উপচে নিচে পড়তে শুরু করে।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ২৬শে আগস্ট, বুধবার রাত ১০টার দিকে গণপতির পাশের বাসায় বসবাসকারী দেবু বর্মনের তিনতলার ছাদ থেকে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, গণপতির ছাদের বেশিরভাগ অংশই পানিতে সিক্ত।
তবে ছাদের একটি অংশ শুকিয়ে গেছে। তবে ছাদটি ঘষে বা মুছে ফেলার মতো কোনো সন্দেহজনক আলামত সেখানে লক্ষ করা যায়নি বলে পুলিশের ভাষ্য।
এ প্রসঙ্গে মহানগর ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “সেখানে দায়িত্বরত আমাদের সদস্যদের একজন অসাবধানতাবশত মোটরের সুইচে চাপ দিয়ে ফেলেন। অনভিজ্ঞতার কারণে লাইটের সুইচ কোনটা তা তিনি চিনতে পারেননি। পরবর্তীতে পানি উপচে পড়ার বিষয়টি টের পেয়ে ওপরের তলায় গিয়ে মোটরটি বন্ধ করা হয়। এখানে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্রের অবকাশ নেই।”
যদিও পুলিশের এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন স্থানীয়রা। একাধিক বাড়ির মালিকের সাথে কথা বললে তারা জানান, পানির মোটরের সুইচ কখনো বাড়ির লাইট-ফ্যানের সুইচবোর্ডে থাকে না। অ্যাম্পিয়ারের পার্থক্যের কারণে পানির মোটরের সুইচ বাড়ির নিচের তলায় আলাদা বোর্ডে অথবা বিদ্যুতের মিটারের বোর্ডের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়।
লাইট-ফ্যানের সুইচ দিতে গিয়ে পানির মোটরের সুইচ দিয়ে দেওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়, বলেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ২২শে আগস্ট, শনিবার নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসভবন থেকে জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পুরো পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত অন্য তিনজন হলেন—গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), তাদের কন্যা প্রার্থী চক্রবর্তী (২৪) এবং একমাত্র পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
এই মর্মান্তিক চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশি অভিযানে প্রতিবেশী দুই তরুণ মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তারা পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করে নেন এবং আদালতের বিচারকের সামনে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন বলে দাবি পুলিশের।
