নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ফ্রান্সের বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে ১৩ দেশের ১০১ সংগঠনের তৎপরতার দাবি ফক্স নিউজের
ইলন মাস্কের ঘোষণা: আমেরিকার প্রতিটি শিশুকে দেবেন স্পেসএক্সের এক শেয়ার, যার মোট মূল্য প্রায় ১০.৫ বিলিয়ন ডলার
তেহরানে ল্যাভরভ: জ্বালানির দামের অস্থিরতা, ইউরোপ, ইরান ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে অবস্থান স্পষ্ট
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ভাইরাল ভিডিও বিভ্রান্তিকর: মক্কা মসজিদ-এর সংবাদমাধ্যম
সৈকতে সাঁতার কাটছিলেন, হঠাৎ হাঙ্গরের আক্রমণে প্রাণ গেল নারীর
ডিভি লটারি চালুর আদেশ স্থগিত চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল
ঋণের ভারে পুড়ছে ফ্রান্স, এরপর কি যুক্তরাষ্ট্র?
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: শরিয়তের নয়, কূটনৈতিক মিশনের “বড় শিক্ষা”; আটকের তথ্য আগেই ছিল-ছিলো না কোন পদক্ষেপ
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের গোপন নথির তথ্যে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। দুই বক্তব্য থেকে এটুকু স্পষ্ট, সাজার তথ্য সরকারের কাছে ছিল না। তবে আটকের তথ্য কনস্যুলেটের কাছে দুই বছরের বেশি সময় ধরে ছিল।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ঘটনাটি সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারেনি। বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশকে আগে জানানো হয়েছিল কি না, এই প্রশ্নের উত্তরেই তিনি এ কথা বলেন।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনের বরাতে তিনি জানান, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। প্রাথমিক তদন্ত শেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বা বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধানে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সৌদি আরবের একটি নিজস্ব আইনি কাঠামো আছে। সেই আইনি কাঠামো অনুযায়ী কেউ যদি গর্হিত অন্যায় কাজ করে, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সেই আইন অনুযায়ী সাজা হয়।” তিনি আরও বলেন, “সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।”
কনস্যুলেটের নথি
পরদিন রোববার (১৮ অক্টোবর) জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ চিঠি পাঠায়। তাতে নিহত দুজনের নাম নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার। চিঠি অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর মক্কায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
নথিতে আটকের কারণ গালফ নিউজের বিবরণ থেকে আলাদা। কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে পৃথক অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়। নজরুলকে সাইবার অপরাধ আইনে ১ আগস্ট এবং সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে পরদিন আটক করা হয়। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দার নারী কারাগারে বন্দি ছিলেন। দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন।
কনস্যুলেটের কাছে থাকা বন্দি তালিকায় রায়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণের কলামে (৭ নম্বর) দুজনের কারও সাজার তথ্য ছিল না।
মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখও ছিল না।
নথিতে বলা হয়েছে, সাইবার অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের নজির সম্পর্কে কনস্যুলেটের কাছে তথ্য নেই। সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বা কার্যকর করার বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কিছু জানায়নি। আটকের পর মামলার অগ্রগতি নিয়ে কনস্যুলেটের কোনো পদক্ষেপের কথা নথিতে নেই।
মৃত্যুদণ্ডের পর কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে। তাতে রায়ের অনুলিপি ও বিচারপ্রক্রিয়ার তথ্য চাওয়া হয়েছে। রায়ের কপি পেলে পরবর্তী প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
কারাগারে বাংলাদেশিরা
নথি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারে এখন ৩০৬ জন বাংলাদেশি বন্দি আছেন। এঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। সাইবার অপরাধের তিনটি আলাদা মামলায় বাংলাদেশিদের ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হয়েছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]