ভারতে ভার্চুয়াল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে নতুন প্রজন্ম – বর্ণমালা টেলিভিশন

ভারতে ভার্চুয়াল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে নতুন প্রজন্ম

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ জুলাই, ২০২৫ | ৮:৪১ 214 ভিউ
এক সময় যে ধর্ম ও জ্যোতিষশাস্ত্রকে কেবল প্রাচীন ও রক্ষণশীল ধ্যানধারণা হিসেবে দেখা হতো, তা আজ ভারতীয় তরুণ প্রজন্মের বিশেষ করে ‘জেনারেশন জেড’-এর চাহিদায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মেলবন্ধনে ভারতের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বাজারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। সোমবার (০৭ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এমনই অবাক করা তথ্য উঠে এসেছে । বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর। তারা ধর্মীয় অনুশাসন মানলেও তা মানছে নিজেদের আধুনিক পদ্ধতিতেই। মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়ার চেয়ে এখন স্মার্টফোনে অ্যাপ ব্যবহার করে জ্যোতিষ পাঠ বা ভার্চুয়াল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াকেই অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে ভারতের নতুন প্রজন্মের কাছে। ডিজিটাল জ্যোতিষ চর্চা: জন্মকুণ্ডলী তৈরি কিংবা রাশিফল বিশ্লেষণের মতো বিষয়গুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অ্যাপেই সহজলভ্য। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এসব অ্যাপ ব্যবহার করে ভাগ্য গণনা ও পরামর্শ নিচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আধ্যাত্মিকতা: ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে অনেক তরুণ ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক কনটেন্ট তৈরি করছে এখন ভারতে। সহজ ভাষা ও মনকাড়া উপস্থাপনায় এগুলো দ্রুত ভাইরালও হয়ে পড়ছে, যা ধর্মকে সহজেই পৌঁছে দিচ্ছে নতুন প্রজন্মের কাছে। ভার্চুয়াল পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান: বিশেষ করে কোভিড পরবর্তী সময়ে ভার্চুয়াল মন্দির ও অনলাইন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এতে দূরবর্তী স্থান থেকেও মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারছে, যা ধর্ম চর্চাকে করে তুলেছে আরও সহজ ও গণমুখী। কেন ‘জেন জেড’-ই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি? ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেনারেশন জেড বড় হয়েছে বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পরিবেশ সংকটের মধ্য দিয়ে। এই প্রজন্ম নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তির খোঁজে নতুনভাবে ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকছে নতুন করে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতার খোঁজে: এ প্রজন্ম এমন এক স্পিরিচুয়াল অভিজ্ঞতা চায় যা তাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক। এই চাহিদা পূরণ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কমিউনিটি ও যোগাযোগ: অনলাইন গ্রুপ, সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং আধ্যাত্মিক গুরুর সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুযোগ তরুণদের যুক্ত করছে ধর্মীয় আলোচনায়। পুরোনো-নতুনের মেলবন্ধন: প্রাচীন ধর্মীয় শিক্ষাকে আধুনিক মনস্তত্ত্ব ও মাইন্ডফুলনেসের সঙ্গে মিশিয়ে নিচ্ছে তারা। অর্থনীতিতে প্রভাব: বিশাল বাজার সম্ভাবনা এই পরিবর্তিত ধারার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। ভারতে ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা এখন একটি বৃহৎ শিল্পখাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: জ্যোতিষভিত্তিক অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্ম থেকে হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে। পবিত্র বস্তু, রত্ন ও পূজার সামগ্রী অনলাইনে ব্যাপক হারে বিক্রি হচ্ছে। সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক কনটেন্ট, ওয়েবিনার ও ভার্চুয়াল ইভেন্ট থেকেও হচ্ছে আয়। ভার্চুয়াল তীর্থযাত্রা ও ধর্মীয় অভিজ্ঞতা পর্যটন খাতেও নতুন মাত্রা এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ধর্ম ও আধ্যাত্মিক অর্থনীতি বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকায়। যার অন্যতম চালকশক্তি জেনারেশন জেডের ডিজিটাল ধর্মচর্চা। টেকনোলজি ও আধ্যাত্মিকতার সম্মিলনে ধর্ম এখন শুধু ঐতিহ্য নয়। এটি এখন আধুনিক জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। জেনারেশন জেড ধর্মকে উপভোগ করছে মোবাইল স্ক্রিনের মাধ্যমে—যেখানে প্রযুক্তি, সামাজিক সংযোগ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা একসঙ্গে মিলিত। এই ধারা শুধু ভারতের ধর্মীয় অর্থনীতিকে নয়; বরং ধর্মের ভবিষ্যৎ ধরনকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয় “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট টেলিটক ও নগদ ‘কিনতে’ চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন! অভিযুক্তের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন, নিহত ৩ হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর মাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, অতঃপর… ধর্ষণ মামলার দ্রুত তদন্তে বাধা মেডিকেল রিপোর্ট মুখে ঘা কেন হয় এআই মামলার ভুয়া মেসেজের প্রতারণা, ফাঁদ এড়াবেন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ৬৪ মিলিয়ন মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে গুগল রাজধানীতে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে ৩০ বিদেশি আটক ওয়ান ব্যাংকে জব সার্কুলার, আবেদন শেষ ১৫ জুন