নিউজ ডেক্স
আরও খবর
কম্বোডিয়ার বন্দিদশা থেকে মুক্ত ৩০ বাংলাদেশি দেশে
ইরানের সরকার উৎখাতের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর
দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় নির্বাচনে মুসলিমদের ভোট দেওয়ার আহ্বান প্রেসিডেন্টের
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হামলা, জরুরি সতর্কতা জারি
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ নথিতে যা আছে
ফ্রান্সের পথ ধরে এবার বড় ধরনের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র, নেপথ্যে দুই কারণ
ইউক্রেনের সঙ্গে মেক্সিকান ড্রাগ কার্টেলের যোগসাজশ তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি রুশ গোয়েন্দা সংস্থার
ঋণের ভারে পুড়ছে ফ্রান্স, এরপর কি যুক্তরাষ্ট্র?
রাজস্ব সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ফ্রান্স পুড়ছে। দেশটি সামর্থ্যের চেয়ে এত বেশি খরচ বা ঋণ নিয়েছে যে, সেটি ফেরত দেওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঋণ পরিশোধের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। এর মধ্যেই বেড়েছে জ্বালানির দাম ও বন্ডের সুদের হার। এ অবস্থায় কর বাড়ানো ও ব্যয় কমানোর পথটি সম্ভাব্য সমাধান। কিন্তু সমস্যা হলো, এ দুটি পদক্ষেপই রাজনৈতিকভাবে বেশ অজনপ্রিয়। এতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে। আবার সরকারে বিভক্তি থাকলে যেকোনো সমাধান বাস্তবায়ন করাও কঠিন। দেশটিতে বর্তমানে মধ্যমপন্থি ও ডানপন্থিদের জোট ক্ষমতায় আছে।
ফ্রান্সের মতো আরও অনেক দেশ এমন সংকটে পড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য। দ্রুত ঋণ বৃদ্ধি, সেই ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বিষয়গুলো এখন পশ্চিমা অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যুক্তরাষ্ট্রও এর বাইরে নয়।
তবে দুই দেশের অর্থনীতিতে পার্থক্য আছে। ফরাসিদের বিশাল সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থাই মূলত সরকারি ব্যয়ের বড় অংশ গ্রাস করে। অপরদিকে অর্থনীতির স্বতন্ত্র গতিপ্রকৃতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ফ্রান্স হয়ে ওঠার ঝুঁকি আপাতত নেই।
কিন্তু সমস্যা আছে
ইউরোপের সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা কয়েক দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটছে। যা নিয়ে অর্থনীতি ও রাজনীতিবিদরা বহু বছর ধরেই সতর্ক করে আসছেন। কারণটা খুবই সরল- ব্যয় করলে তা পরিশোধের বোঝা এক সময় সামনে আসবেই। বর্তমানে ইরান যুদ্ধ পশ্চিমাদের রাজস্ব সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) গত সপ্তাহে জানায়, ফেব্রুয়ারি থেকে জি৭ ভুক্ত দেশগুলোর ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের গড় রিটার্ন ১ শতাংশ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে। এটি গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি দশকের শেষ নাগাদ এই জোটভুক্ত সাতটি দেশের সম্মিলিত সরকারি ঋণের পরিমাণ তাদের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটবে।
জি৭ ভুক্ত দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও কানাডা। বর্তমানে ফ্রান্সের সরকারি ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১১৯ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ। দেশটির বার্ষিক বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
ইংল্যান্ডের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক নীতিবিষয়ক অধ্যাপক পিটার টেলর-গুবি বলছেন, ইউরোপে বন্ডবাজার ও সরকারের ঋণের সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
কাগজে-কলমে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতিও খুব বেশি সুবিধার নয়। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৩২ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি বার্ষিক জিডিপির প্রায় সমান। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি। সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে বার্ষিক ব্যয় সম্প্রতি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের কর থেকে পাওয়া প্রতি সাত ডলারের এক ডলারই ব্যয় হয় ঋণের সুদ পরিশোধে।
তবে ইউরোপে সরকারি ব্যয় কমানো ও কর বাড়ানোকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, যুক্তরাষ্ট্রে তেমনটা নেই। এক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে- যুক্তরাষ্ট্র কেন ফ্রান্সের মতো একই সমস্যার মুখে পড়ছে না?
যুক্তরাষ্ট্রে এখনই কেন এমনটা ঘটবে না?
দেশটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো- ডলার ছাপানো। অন্য দেশগুলো মূলত এই মুদ্রায় তাদের রিজার্ভ মজুত করে। তেল ও স্বর্ণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যসহ বিশ্বের অধিকাংশ লেনদেন ডলারে সম্পন্ন হয়।
ডলারের চাহিদা এখনো শক্তিশালী। কারণ, অন্যরা এটিকে নিরাপদ বলে মনে করে। একই কারণে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের চাহিদাও বাড়ে। বিশ্বজুড়ে সরকারি বন্ড বিক্রির চাপের মধ্যেও মার্কিন বন্ডের সুদের হার পশ্চিমা অন্য অর্থনীতির তুলনায় এখনো কম।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আকারে বেশ বড় ও বৈচিত্র্যময়। ফলে ছোট অর্থনীতির দেশের তুলনায় তারা বিভিন্ন ধাক্কা সামলাতে বেশি সক্ষম। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক প্রবৃদ্ধি মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙা করছে।
বাজেট ঘাটতির গুরুত্ব কমানোর অন্যতম উপায় হলো অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী রাখা। এতে অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের পরিমাণ অনেক কম বলে মনে হয়। মুডিস অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি বলেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি প্রায় একই রকম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধিতে এআইয়ের অবদান; ঋণ সামলানো ও পরিস্থিতি সহজে মোকাবিলার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আপাতত ঋণসংকটের আশঙ্কা নেই। কিন্তু এটি ভেবে স্বস্তি বোধ না করার পরামর্শ দিয়েছেন মার্ক জান্ডি। তিনি বলেন, এখানে অন্যদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র শুধু ভিন্ন এক অবস্থানে আছে।
আগামী মাসে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এরপর কংগ্রেস নতুন সদস্য পাবে। যদি ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ পায়, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। ঋণসীমা বাড়ানোর বিষয়টি তখন হয়তো রাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]