মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে নভেম্বরে ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার – বর্ণমালা টেলিভিশন

মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে নভেম্বরে ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ October, ২০২৬ | ১১:৫৫ 7 ভিউ
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর মব-হামলা, জোরপূর্বক পদত্যাগ ও ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়নের অভিযোগের দুই বছর পরও অনেক ভুক্তভোগী কর্মস্থল বা ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেননি। এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের শিক্ষার অধিকারবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শাহীন আগামী ২৩ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্য অনুযায়ী, তিনি সরকারের আমন্ত্রণে ২৩ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি সফরে থাকবেন। সফরে সরকারি প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের পরিধি বাংলাদেশে মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার অধিকারের সার্বিক অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা। সফর শেষে তিনি প্রতিবেদন তৈরি করে ২০২৭ সালের জুনে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করবেন। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সফরে মবের শিকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নিহত শিক্ষকদের পরিবারের সঙ্গেও তিনি কথা বলবেন। র‍্যাপোর্টিয়ার জাতিসংঘের স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ, এটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিশন নয়। তাঁর সুপারিশ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হয় না। ২০২৪ সালের আন্দোলন নিয়ে ওএইচসিএইচআরের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন আলাদা ছিল। কতজন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের সংগঠনের দাবি, প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান মবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার জানান, জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো এ রকম ৩০০ জন তাঁদের সংগঠনের সদস্য। তিনি ধামরাইয়ের সূয়াপুর নান্নার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৯৫০ শিক্ষকের এমপিও বন্ধ আছে। কত শিক্ষক এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন, সে তথ্য সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নেই বলে প্রথম আলো জানিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট ও তার পরের মাসগুলোয় সংবাদমাধ্যমে আরও কিছু হিসাব এসেছে। ডেইলি সান লিখেছে, বেসরকারি স্কুলের অন্তত ৩ হাজার শিক্ষক একই পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। সংখ্যালঘু সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ঐক্য পরিষদ জানিয়েছিল, ৩০ আগস্টের মধ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু অন্তত ৪৯ জন শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ১৯ জন পরে পুনর্বহাল হন। কয়েকটি ঘটনা ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী ও সহকারী অধ্যাপক ফারহানা খানম মবের মুখে পদত্যাগ করেন। তাঁরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন, বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ বেদারউদ্দিন আহমেদকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। ২০২৫ সালের মার্চে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর পদত্যাগ সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সঠিক হয়নি। এখনো ব্যবস্থা হয়নি, তিনি আদালতে গেছেন। সিলেটে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট ব্লুবার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হুসনে আরাকে ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন’-এর ব্যানারে জড়ো হওয়া একদল শিক্ষার্থী সাদা কাগজে লেখা পদত্যাগপত্রে সই করতে বাধ্য করে বলে রাইজিংবিডি জানিয়েছে। কিশোরী মোহন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরা ঘোষের অভিযোগ, ২৯ আগস্ট তাঁর বাসা থেকে জোর করে সই নেওয়া হয়। তিনি বলেন, দুবার তদন্তেও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তবু বেতন বন্ধ। আদালতের নির্দেশ থাকলেও কর্তৃপক্ষ তাঁকে ফেরায়নি। শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জিত দাস গত নভেম্বর থেকে সরকারি বেতনও পাচ্ছেন না। সিলেট অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. দিদার চৌধুরী বলেছেন, তাঁদের ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় ফেরানো হবে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে, যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি। শিক্ষকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসদাচরণ বা রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগও আছে। প্রথম আলো লিখেছে, এ ধরনের অভিযোগে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এর মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই তদন্ত কমিটিগুলো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন। শিক্ষাবিদরা বলছেন, অভিযোগ থাকলে প্রমাণসাপেক্ষে ব্যবস্থা হতে পারে, কিন্তু শারীরিক হেনস্তা গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ একদল শিক্ষার্থী জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। দ্য ভয়েস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের দাবি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁদের হল ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, মব হয়রানির শিকার করা হয়েছে এবং মামলার কারণে পরীক্ষা বা ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মামলা পর্যালোচনা, নিরাপদে ক্যাম্পাসে ফেরার নিশ্চয়তা ও মব-বিচার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এবং র‍্যাপোর্টিয়ারকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের অনুরোধ করেছেন। অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা যায়নি। সরকারি পদক্ষেপ কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জোরপূর্বক পদত্যাগ গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়ে নির্দেশনা জারি করেছিল। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান তা বাস্তবায়ন করেনি। ঘটনা চলমান মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ লেখা ব্যানার নিয়ে একদল লোক উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. জাওয়াদুল হকের কার্যালয়ে ঢুকে তাঁকে ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং আগে থেকে লিখে আনা পদত্যাগপত্রে সই করায় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের আগে সালাম সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে এটি হয়েছে। মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা বলেন, এটি দলীয় সিদ্ধান্ত নয়, এবং উপাচার্যের নিয়োগ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। উপাচার্য অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদারি কাজের চাপ দিতে কিছু ব্যক্তি আগেও তাঁর পদত্যাগ চেয়েছিলেন। চিকিৎসক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুধবার মানববন্ধন করেছেন।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সেচ্ছাসেবক দলের নেতা বগাকে ধরতে অভিযানে বাধা ডা. শাহাদাতের বিআইডিএস-এর প্রতিবেদন: বিদেশি অনুদানে টান পড়ায় ধুঁকছে ছোট ও মাঝারি এনজিও মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে নভেম্বরে ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে ভয়াবহ উদ্বেগ প্রকাশ, তিন ধাপে কমল প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সিলিন্ডারে ১২ কেজি গ্যাসের ৪ কেজিই উধাও! বাতাস বেচে লাখপতি ব্যবসায়ী ‘ব্যবসা করতে হলে টাকা দে’: কুমিল্লায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর পা ভাঙল যুবদল নেতা বগুড়ায় সারের মজুদে গরমিল, এক ডিলারের গুদামেই হদিস নেই ১৭৬ বস্তার বিএনপি ও গণঅধিকারের দখলে বিএলএফ প্রধান শেখ মনির দৈনিক বাংলার বাণী ভবন এক ধাক্কাতেই দারিদ্র্যসীমার নিচে দেশের সোয়া ৬ কোটি মানুষ! বিদ্যুৎ খাতের রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিতে বৈষম্য: দরিদ্রের চেয়ে অধিক সুবিধা ভোগ করছে ধনীরা বাঙালির ডিএনএতে লুকানো “চতুর্থ পূর্বপুরুষ”: দেড় হাজার বছর আগের নীরব অভিবাসনের গল্প বিএনপি সরকারের উন্নয়ন: শৈলকুপায় ১২ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে ৩ নম্বর ইট ব্যবহার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থী-বিক্ষোভে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক; ইউএন ও ভলকার তুর্ক নীরব ফ্যামিলি কার্ডের নামে ৯৮ হাজার টাকা লোপাট, আরও টাকা নিতে গেলে বিএনপি নেতার স্ত্রীকে ধোলাই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামবে বলছে বিশ্বব্যাংক, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন কি অধরা রয়ে যাবে? আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫২ ঘরে তালা: ঘর বরাদ্দে আর্থিক অনিয়ম, সন্ধ্যায় নারী-মাদকের কারবার সেন্ট মার্টিনে জামায়াতের অনভিজ্ঞ কর্মীদের বিনা মূল্যে খৎনার পর অন্তত ৫০ শিশু অসুস্থ বিরোধী ও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটক করছে বিএনপি সরকার: এইচআরডাব্লিউ বিদেশিদের হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের একের পর এক টার্মিনাল: ঝুঁকিতে রাজস্ব, কর্মসংস্থান ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ