ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ালো চীন – বর্ণমালা টেলিভিশন

ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ালো চীন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৮ April, ২০২৫ | ১০:৪০ 127 ভিউ
পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে চীন রোববার পাকিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনালাপে এ সমর্থন জানান। ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (আইআইওজেকে) পহেলগাঁও এলাকায় হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে দুই মন্ত্রীর মধ্যে কথা হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গভীর-বন্ধুত্বের প্রতীক এবং সর্বক্ষণের কৌশলগত সহযোগী অংশীদার হিসেবে চীন পাকিস্তানের বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্পূর্ণভাবে বোঝে এবং এর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। ভারতের হুমকির প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের জন্য চীনের এই সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে এবং পুরো যুদ্ধ কিংবা সীমিত সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ ধরনের যেকোনো পরিস্থিতিতে চীনের সমর্থন পাকিস্তানের জন্য ভারতকে প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক সূত্র মতে, যুদ্ধের সম্ভাবনা মাথায় রেখে ভারত তার কৌশল নির্ধারণ করলেও ‘চীন ফ্যাক্টর’কে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। কূটনীতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন কখনোই পাকিস্তানকে ভারতের কাছে দুর্বল হতে দেবে না এবং প্রয়োজনে সামরিক সহায়তাও দিতে পারে। পহেলগাঁও হামলার পর ভারত যখন পাকিস্তানের ওপর দোষ চাপিয়ে আক্রমণের পরিকল্পনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তখন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এ আলোচনা হয়। পহেলগাঁও হামলাটি ২২ এপ্রিল ঘটে, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অঞ্চলে স্বাভাবিকতা ফিরেছে’—এই বক্তব্যকে ভেঙে দেয়। পাকিস্তান এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে এবং যেকোনো নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে। ফোনালাপে ওয়াং ই পাকিস্তানের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ওয়াং ই বলেন, চীন দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর পক্ষে এবং জোর দিয়ে বলছে, সংঘাত কখনো ভারত-পাকিস্তান কিংবা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উভয় দেশ সংযম দেখাবে, একে অপরের দিকে এগিয়ে আসবে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করবে। ওয়াং ই জানান, চীন পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। ফোনালাপে ইসহাক দার ওয়াং ই-কে জানান, পাকিস্তান সব সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। ইসহাক দার আরও বলেন, পাকিস্তান পরিপক্ক মনোভাব নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং চীনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে। ওয়াং ই বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই সব দেশের যৌথ দায়িত্ব। চীন সবসময় পাকিস্তানের দৃঢ় সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা বিবৃতিতে জানানো হয়, দার চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভারতের একতরফা ও বেআইনি পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচারণার বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি পাকিস্তান-চীন বন্ধুত্ব ও সর্বক্ষণের কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতি অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া বাড়াতে এবং একতরফা নীতি ও আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় প্রকাশ করে। তারা সকল পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার ব্যাপারেও একমত হয়। এদিকে, ইসহাক দার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সঙ্গেও কথা বলেন। সেখানে তিনি ভারতের মিথ্যা অভিযোগ, ভিত্তিহীন প্রচারণা এবং একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) স্থগিত করার বেআইনি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন, যা ভারতের আন্তর্জাতিক দায়িত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। দার জানান, পাকিস্তান জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, তবে একইসঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ডেভিড ল্যামি উত্তেজনা প্রশমনের জন্য সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে এবং দুই দেশের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের