জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে আজারবাইজানের সহায়তা চায় সিরিয়া – বর্ণমালা টেলিভিশন

জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে আজারবাইজানের সহায়তা চায় সিরিয়া

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ April, ২০২৫ | ১০:৫৫ 158 ভিউ
এবারের অ্যান্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করলেন সিরিয়া ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টরা। সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের এই বৈঠকে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার তেল ও গ্যাস খাত পুনর্গঠনে আজারবাইজানের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় বলে মিডল ইস্ট আই-কে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। সূত্র জানায়, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় অবস্থিত বেশিরভাগ তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, নতুন সিরীয় সরকার সেখানে আজারবাইজানের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সোকার-এর অংশগ্রহণে উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে। চলতি মাসের শুরুতে সোকার তুরস্ক শাখার প্রধান এলচিন ইবাদোভ ইঙ্গিত দেন, যদি আজারবাইজান ও তুরস্কের যৌথ কৌশলগত স্বার্থে সিরিয়ার জ্বালানি খাতে তাদের ভূমিকা থাকে, তবে প্রতিষ্ঠানটি এতে অংশ নিতে প্রস্তুত। গত মার্চে এসডিএফ নেতা মাজলুম আবদি ও প্রেসিডেন্ট শারা একটি ঐক্যমত্য চুক্তি সই করেন, যাতে ওই তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সিরীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যদিও বাস্তবে এখনো কেন্দ্র সরকার এসব ক্ষেত্রের পূর্ণ দখল নিতে পারেনি। সিরিয়ার নতুন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎপাদিত আয়ের ৭০ শতাংশ যাবে কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিলে এবং ৩০ শতাংশ ব্যয় হবে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে। এক তুর্কি কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আই-কে জানান, সিরিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে উঠলে তা ইসরাইলের আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত করতে পারে, বিশেষত নতুন সিরীয় সরকারকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পটভূমিতে। উল্লেখ্য, ইসরাইল সম্প্রতি সিরিয়ার তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যাতে তুরস্কের বাহিনী এগুলো দখল না করে ফেলে—এই আশঙ্কা থেকেই আজারবাইজানে তুর্কি ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিকনফ্লিকশন বৈঠকও হয়। সিরিয়ার সংবাদমাধ্যম এনাব বালাদি জানায়, দেশটি বর্তমানে দৈনিক ১ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যার মধ্যে ১ লাখ ব্যারেলই আসে এসডিএফ-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে। যুদ্ধের আগে, ২০১০ সালে এই উৎপাদন ছিল দৈনিক ৩ লাখ ৮৫ হাজার ব্যারেল। গ্যাস উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ৯.১ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে, যেখানে ২০১০ সালে এই হার ছিল ৩০ মিলিয়ন ঘনমিটার। নতুন সরকার উৎপাদন করছে ৮ মিলিয়ন ঘনমিটার এবং বাকিটা এসডিএফ-এর দখলে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে যুদ্ধের সময় দেশ ছেড়েছিল ১১টি বড় তেল কোম্পানি, যারা এক সময় সিরিয়ার মোট তেল উৎপাদনের ৪৯.৬ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল। তবে চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য সিরিয়ার জ্বালানি খাতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জেনারেল লাইসেন্স ২৪ জারি করে, যার আওতায় নতুন প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ছয় মাসের জন্য লেনদেন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, সংরক্ষণ এবং ক্রয়-বিক্রয় অনুমোদিত হয়েছে। তবে লাইসেন্সটি আগামী ৮ জুনে শেষ হয়ে যাবে, যদি না তা নবায়ন করা হয়। এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন সিরীয় সরকারের ওপর আরও কঠোর শর্তারোপ করছে, যেমন— কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান ও ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর বহিষ্কার। এই প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার নতুন সরকার চাইছে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভারসাম্য রক্ষা করতে—এবং আজারবাইজানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে জ্বালানি খাতকে কেন্দ্র করে তাদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের