জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি, হামাসের প্রতি লেবাননের কঠোর সতর্কতা – বর্ণমালা টেলিভিশন

জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি, হামাসের প্রতি লেবাননের কঠোর সতর্কতা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩ May, ২০২৫ | ১১:০৭ 154 ভিউ
লেবাননের শীর্ষ সামরিক সংস্থা সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিল শুক্রবার ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে, যেন তারা এমন কোনো তৎপরতা চালায় না যা দেশটির নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্বকে বিঘ্নিত করে। ৩ মে (শনিবার) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে আরব নিউজ। এই সতর্কবার্তা আসে এমন এক সময়ে, যখন লেবানন থেকে ইসরাইলের উত্তর দিকে রকেট নিক্ষেপের ঘটনায় কয়েকজন লেবানিজ ও ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাউন্সিল একাধিক সুপারিশ মন্ত্রিসভায় পাঠিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল: হামাসকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যেন লেবাননের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, যা লেবানের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। প্রতিবেদন আরও জানায়, লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন, যিনি এই প্রথম কাউন্সিল বৈঠকে উপস্থিত হলেন। কাউন্সিলের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আল-মুস্তাফা বলেন, বিভিন্ন সামরিক ও নিরাপত্তা সংস্থা লেবানের একাধিক অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন পেশ করেছে, বিশেষ করে রকেট নিক্ষেপের ঘটনা, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে। গত ২২ ও ২৮ মার্চ লেবানন থেকে ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে লেবাননের নিরাপত্তা সংস্থা। বৈঠকে জানানো হয়, আটকদের এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। আউন বৈঠকে বলেন, জাতীয় চুক্তি, শপথ বক্তৃতা এবং মন্ত্রিসভার বিবৃতি অনুযায়ী দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং লেবাননের সর্বত্র রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কেউ লেবাননকে অস্থিতিশীলতার প্ল্যাটফর্ম বানাতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি সংগ্রামের গুরুত্ব স্বীকার করে লেবাননকে কোনো সংঘর্ষে জড়ানোর বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান জানান। প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেন, জাতীয় চুক্তি ও মন্ত্রিসভার বিবৃতির আলোকে অবৈধ অস্ত্র সমর্পণ নিশ্চিত করতে হবে এবং হামাসসহ কোনো গোষ্ঠী যেন লেবানের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, লেবাননের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা সবার ঊর্ধ্বে। আন্তর্জাতিক আইন এবং আরব শান্তি প্রস্তাব অনুযায়ী ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। এক নিরাপত্তা সূত্র ‘আরব নিউজ’-কে জানায়, এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কারণ লেবানন সেনাবাহিনী হামাসকে আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা যেন আইন আল-হিলওয়ে শরণার্থী শিবিরে লুকিয়ে থাকা চার সন্দেহভাজনকে হস্তান্তর করে, যারা রকেট হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। সূত্র জানায়, এই চারজন মূলত হামাসের সামরিক শাখার সদস্য, আর সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া চারজন কেবল রকেট নিক্ষেপের কাজটি সম্পন্ন করেছে। সূত্রটি আরও জানায়, হামাসের নেতৃত্ব এই চারজনকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক নেতাদের, বিশেষ করে হিজবুল্লাহপন্থি স্পিকার নাবিহ বেরিকে ফোন করে চাপ দিতে চেয়েছিল। তবে জবাবে জানানো হয়েছে, এটি সেনাবাহিনীর এখতিয়ারভুক্ত এবং হামাসের পক্ষে কেউ হস্তক্ষেপ করবে না। ফিলিস্তিনি গবেষক ও ‘তাতওয়ের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এর পরিচালক হিশাম দেবসি বলেন, হামাস যা করেছে তা লেবাননের দৃষ্টিতে এক ধরণের দৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ। তারা নিজেদের অস্ত্র সমর্পণকে হিজবুল্লাহর অস্ত্র হস্তান্তরের সঙ্গে তুলনা করেছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি শিবিরগুলোতে অস্ত্র গচ্ছিত রাখা একটি ধাপে ধাপে নিষ্পত্তির বিষয় এবং এটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ফাতাহ আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হবে। এ প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের আসন্ন ২১ মে-র লেবানন সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ ও ২০০৯ সালের পর এটি হবে আব্বাসের তৃতীয় লেবানন সফর। সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল সুলাইমানের সঙ্গে দেখা করার পর আব্বাস বলেছিলেন, লেবানন সরকার যা বলবে, আমরা তারই বাস্তবায়ন করব। ফিলিস্তিনি অস্ত্র আজ আর আমাদের সংগ্রামের কাজে আসে না, বরং সেটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের