ক্ষুধায় কাতর গাজাবাসী, দেওয়ার মতো রক্তও নেই শরীরে – বর্ণমালা টেলিভিশন

ক্ষুধায় কাতর গাজাবাসী, দেওয়ার মতো রক্তও নেই শরীরে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৩ April, ২০২৫ | ১০:৩২ 161 ভিউ
ইসরাইলের অবিরাম হত্যাযজ্ঞে নিশ্চিহ্নপ্রায় গাজা। চারদিকে মৃত্যুর মিছিল। এরই মধ্যে বাড়ছে ক্ষুধা। বন্ধ হয়ে গেছে বেকারিগুলো। বাজারগুলোও খালি পড়ে আছে। এক মাসেরও বেশি সময় অবরুদ্ধ গাজার শেষ খাবারটুকুও ফুরিয়ে আসছে। খাদ্যের অভাবে ইতোমধ্যে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছে গাজার বসিন্দারা। একবেলা-আধপেটা খেয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র অপুষ্টি। যার জেরে ক্রমবর্ধমান আহত প্রতিবেশী-প্রিয়জনদের রক্ত দিতেও পারছেন না গাজাবাসী। খাদ্যাভাবে সৃষ্ট চরম অপুষ্টির কারণে রক্ত কমে গেছে তাদের নিজেদের শরীরেই! মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে ক্রমবর্ধমান চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলের চলমান অবরোধ এবং অনাহার অভিযানের ফলে সৃষ্ট তীব্র অপুষ্টি অনেক ফিলিস্তিনিকে রক্তদানে বাধা দিচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে ইসরাইল। খাদ্য, পানি, জ্বালানি এবং মানবিক সাহায্য প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয় বর্বর সেনারা। পরবর্তী সময়ে থেমে থেমে কিছু ত্রাণ সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও ২ মার্চ থেকে আবারও পূর্ণ অবরোধ পুনর্বহাল করে ইসরাইল। এতে আবারও তীব্র খাদ্য সংকটে পড়ে গাজাবাসী। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রক্তদান কর্মসূচিতে। অপুষ্টির কারণে গাজার অনেকেই রক্তদান করতে অক্ষম হয়ে পড়ছেন। রক্তের ইউনিটের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা। স্বেচ্ছাসেবক আবদুল্লাহ আল-আরের বলেছেন, ‘আমি সাহায্য করার জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু রক্তদান করা আমার পক্ষে কঠিন ছিল। কারণ, আমাদের শরীর আগের মতো নেই। আমরা অনিরাপদ পানি পান করি। আমার কিছু বন্ধু রক্তদান করতে পারেনি। কারণ, তাদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব কম ছিল।’ গাজা ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে তরুণ স্বেচ্ছাসেবক ইয়াহিয়া আল-জারদ রক্তদান করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি একটি সম্পূর্ণ ইউনিট (৪৫০ গ্রাম) সম্পূর্ণ করতে পারেননি। মাঝপথে থামতে হয়েছিল তাকে। তিনি বলেন, ক্ষুধার কারণে আমি দুর্বল হয়ে পড়ি। এজন্য রক্তদানে ব্যর্থ হই। হাসপাতালের রক্তদান অভিযানের তত্ত্ববধানকারী ল্যাব বিশেষজ্ঞ হুদা আবু দালাল বলেছেন, রক্তদান করতে আসা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ স্বেচ্ছাসেবক রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। রক্তের মজুত কম থাকায় এবং দাতার সংখ্যা অপর্যাপ্ত হওয়ায় জর্ডান এবং পশ্চিম তীরের দিকে ঝুঁকছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে ইসরাইলি অবরোধের নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা এবং অধিকার গোষ্ঠীগুলো। তা সত্ত্বেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের বোমা হামলায় জীবন্ত পুড়ে মরেছেন একই পরিবারের ১১ জন। একাধিক বিমান হামলার কারণে খান ইউনিসে ওই বাড়িতে আগুন লেগে যায়। গাজা শহরের পশ্চিম অংশে বিমান হামলায় একটি পরিবারের সাত সদস্যও নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন প্রস্তাব কাতার-মিসরের : হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধে নতুন একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও মিসর। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। ওই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন এ প্রস্তাব কার্যকর হলে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকবে পাঁচ থেকে সাত বছর। এই সময়ে জিম্মিদের মুক্তি দেবে হামাস, বিনিময়ে ইসরাইলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেবে নেতানিয়াহু প্রশাসন। এই চুক্তির আওতায় গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দারবিশ এবং প্রধান আলোচক খালিল আল হাইয়া এই আলোচনায় থাকবেন। তবে নতুন এ প্রস্তাব সম্পর্কে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইল।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের