ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে দীর্ঘ সংগ্রামের ডাক ওয়াইসির – বর্ণমালা টেলিভিশন

ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে দীর্ঘ সংগ্রামের ডাক ওয়াইসির

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ April, ২০২৫ | ১০:৫৪ 152 ভিউ
ওয়াকফ সংশোধনী আইন ২০২৫-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়ে সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তিনি বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের পায়ের ধুলোরও যোগ্য নন।’’ শনিবার, ১৯ এপ্রিল হায়দরাবাদের দারুসসালাম-এ অনুষ্ঠিত এক জনসভায় ওয়াইসি ঘোষণা দেন, এই আইন বাতিল করতে কৃষক আন্দোলনের পথ অনুসরণ করে দীর্ঘ লড়াই চালানো হবে। ওয়াইসি বলেন, ‘এই আইন কার্যকর হওয়ার পর মাত্র এক মাসেই উত্তর প্রদেশে ৫০০টি ওয়াকফ সম্পত্তিকে সরকারি সম্পত্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র সূচনা।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এআইএমআইএম সুপ্রিম কোর্টের তিন তালাক ও বাবরি মসজিদ রায়কে সম্মান জানিয়েছে ঠিকই, তবে সেই রায়গুলোকে তারা 'অব্যর্থ' মনে করে না। ওয়াইসির ভাষায়, ‘আমরা সাংবিধানিক নৈতিকতায় বিশ্বাস করি বলেই আদালতের রায়কে সম্মান জানাই। কিন্তু আরএসএস সংবিধানকে মান্য করে না, কেবল তার নাম ব্যবহার করে।’ তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, ‘যারা ধর্মীয় যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে, তারাই আসলে সংবিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে।’ ওয়াইসি উল্লেখ করেন, ‘তিন তালাক, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর প্রসার এবং এবার ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) — সবই মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত শরিয়ত অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্টকে বাতিল করে ইউসিসি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা বাবাসাহেব আম্বেদকরের আদর্শের বিরোধী।’ ‘ভারতের সৌন্দর্য নরেন্দ্র মোদির মধ্যে নয়, বরং এই দেশের মন্দির, মসজিদ, দরগা এবং জনগণের ভ্রাতৃত্বে নিহিত। যারা এগুলিকে দুর্বল করছে, তারাই আসলে দেশকে দুর্বল করছে,’ বলেন ওয়াইসি। দাউদি বোহরা সম্প্রদায়কে ‘জোর করে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আইনে ওয়াইসি বলেন, ‘সংসদের কমিটির বৈঠকে দাউদি বোহরা সম্প্রদায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল তারা এই আইনের আওতায় আসতে চায় না এবং তারা সেকশন ২-তে সংশোধনের প্রস্তাবও দিয়েছিল। কিন্তু মোদি সরকার উল্টো পথে হেঁটেছে — পুরো সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং কেবল কিছু ট্রাস্টকে ছাড় দিয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘সংশোধিত সেকশন ২-এর কারণে মুকেশ আম্বানি এখন এই সম্প্রদায়ের সম্পত্তির মালিক হতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট সাময়িক স্বস্তি দিলেও ১৯৬৩ সালের লিমিটেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী বহু ওয়াক্ফ সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।’ ওয়াইসি মুসলিম সমাজকে আহ্বান জানান শিয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উপশাখার প্রতি সন্দেহ না রেখে ঐক্যবদ্ধ হতে। অন্য ধর্মের মানুষদের কাছেও বোঝাতে বলেন যে হিন্দুদের জন্য যা এন্ডোউমেন্ট অ্যাক্টে আছে, শিখদের জন্য গুরদোয়ারা কমিটি যেমন কাজ করে, তেমনি নীতিমালাই ওয়াক্ফ সম্পত্তির জন্যও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘যারা মোদি সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে এই আইনকে সমর্থন করছে, তারা যেন মনে রাখে যে মৃত্যুর পর তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, তারা আল্লাহর অনুসারী ছিলেন, নাকি মোদির।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এক দীর্ঘ সংগ্রামের মুখোমুখি। আত্মমর্যাদা ছাড়া আমরা মৃতদেহের চেয়েও অধম।’ তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে মুসলিম সমাজকে অনুপ্রেরণা নিতে বলেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানি। তিনি বলেন, ‘আইনগত লড়াই এখনও শেষ হয়নি, আমরা আশা করছি সুপ্রিম কোর্ট এই অন্ধকার আইন বাতিল করে দেবে।’ তিনি বলেন, ‘নতুন সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে কেউ যদি ১২ বছর ধরে অবৈধভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি দখলে রাখে, তাহলে সে তার মালিক হয়ে যাবে। অথচ দানকারীকে মুসলমান হতে হবে অন্তত পাঁচ বছর ধরে, যা পূর্বে ছিল না।’ ‘এই অঞ্চলে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখেছে। হিন্দুরাও ওয়াক্ফের জন্য জমি দান করেছে, আর নিজামরা অন্যান্য সম্প্রদায়কে জমি দিয়েছেন। এই আইন তা বন্ধ করে দিচ্ছে,’ তিনি বলেন। তিনি মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান, কারণ তার মতে, ‘ওয়াক্ফ রক্ষা করতে না পারলে শরিয়তও রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’ তরুণ সমাজকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারকে মোকাবিলা করে। সভায় অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআরসিপি, তামিলনাড়ুর ডিএমকে-সহ বহু রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পণ্ডিত ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। জনসমাগম এতটাই ছিল যে, ‘একটা বালির কণাও পড়লে মাটিতে পৌঁছাত না,’ মন্তব্য করেন আয়োজকেরা। ওয়াইসি ও মাওলানা রাহমানি উভয়েই শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘এই আন্দোলনে অমুসলিমদেরও যুক্ত করতে হবে, যাতে বিজেপি সরকারকে এই বিতর্কিত আইন বাতিলে বাধ্য করা যায়।’

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের