পুলিশ বাহিনীকে গড়ে তোলা হবে যুগোপযোগী করে

5 October 2020, 11:19 AM | আপডেট:  5 October 2020 , 0:19 AM
বাংলাদেশ

পুুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে সংস্কারের পরিকল্পনা করছে সরকার। পেশাদারিত্বের দক্ষতায় পুলিশ বাহিনীকে গড়ে তোলা হবে যুগোপযোগী। পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের জন্য যে অধ্যাদেশ রয়েছে সেটার আদলে আরও সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে পুলিশ বাহিনী। ভাবমূর্তি উজ্বল করে সুনাম, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে পুলিশ বাহিনী। পুলিশ বাহিনীর প্রধান ‘ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ’ (আইজিপি) পদবি পরিবর্তন করে হবে ‘চীফ অব পুলিশ’। বদলে যাবে পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদ-পদবি। পুলিশ বাহিনীর অনেক সমস্যাই দূর হয়ে যাবে। পুলিশের জবাবদিহিতা থাকবে চার স্তরে। পুলিশ বাহিনীতে রাজনৈতিক খবরদারি করার সুযোগ বন্ধ, জাতীয় পুলিশ কমিশন, অভিযোগ কমিশন, নীতি নির্ধারণী গ্রুপ গঠন করে পুলিশ বাহিনীকে গড়ে তোলা হবে ‘জনবান্ধব’ ও ‘জনতার পুলিশ’। পুলিশ বাহিনীর সাম্প্রতিক কিছু অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তার কারণেই পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের বিষয়টি এখন সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের আলোচনার টেবিলে উঠেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ খবর জানা গেছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকান্ড, মাদকের সঙ্গে একশ্রেণীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা, ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের বাণিজ্যসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর জড়িত থাকাসহ নানা কারণে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার করার বিষয়টির কথা গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা করছে সরকার। অথচ প্রানঘাতী করোনাভাইরাসের সময় মানুষজনের সেবা দিতে গিয়ে এই পুলিশ বাহিনীর ৭৭ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য। করোনাভাইরাসের সময়ে লকডাউনের কারণে মানুষজন যখন প্রায় গৃহবন্দী তখন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা জীবন বাজি রেখে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে মানবিক পুলিশ বাহিনী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর জন্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ কারণে শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলায়ই দেড় হাজার পুলিশ বাহিনীর সদস্যকে একযোগে বদলি ও তাদের শূন্যস্থানে আবার একযোগে দেড় হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্তের ঘটনাটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়। শুধু তাই নয়, পুলিশ বাহিনীতে মাদকাসক্তদের জন্য ডোপ টেস্ট করে চাকরিচ্যুতিসহ শাস্তি বিধানের পদক্ষেপটিও পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ অধ্যাদেশ-২০০৭’ নামে পরিচিত অধ্যাদেশ তৈরি করা হয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) এস এম শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি কমিটি পুলিশ সংস্কারের খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করে তা স্বরাষ্ট্্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটির ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরে বিভাগ, জেলা ও উপজেলার তৃণমূল পর্যায় থেকে জনমত সংগ্রহ করা হয়। প্রায় ১৩ বছর আগের তৈরি করা অধ্যাদেশটি দীর্ঘকাল চাপা পড়ে থাকার পর এখন আবার সামনে এসেছে। পুলিশ বাহিনীর বিপন্ন ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে জনবান্ধব ও জনগণের পুলিশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের বিষয়টি এখন আলোচনার টেবিলে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে আলোচনা হচ্ছে। পুলিশ অধ্যাদেশ-২০১৩ (খসড়া) যাচাই-বাছাইয়ে কমিটি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনের বিষয়গুলোকে আরও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষজন যাতে পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পায় সেজন্য পুলিশের জবাবদিহি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। কারণ পুলিশ বাহিনী এখনও সেই ঔপনিবেশিক আমলের ১৮৬১ সালের শোষণমূলক আইনেই চলছে। মানুষজনকে শোষণ করার জন্য তৈরি আইনটি এখন আর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। এ জন্যই পুলিশের আধুনিকায়নে পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পুুলিশকে যুগোপযোগী, জনবান্ধব, পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলে সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং পুলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের বিষয়টি সময়ের দাবি। পুলিশ বাহিনীর সংস্কার হলে আরও সুনাম, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি। পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ বাহিনীতে বড় ধরনের সংস্কার করতে হলে পুরনো আইন সংস্কার করে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুলিশ পরিচালনা, কল্যাণ ও এ বাহিনীকে আধুনিকায়নে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে অধ্যাদেশ তৈরি করা অপরিহার্য। পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা ও গতিশীলতা আনয়নের আলোকে আইন সংস্কার করার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে পুলিশ সদর দফতরের দাবি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ১৮৬১ সালের ঔপনিবেশিক আমলের শোষণমূলক আইনেই পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম চলতে থাকার মধ্যেই অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর কিছু দাবিদাওয়ার প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের আলোকে পুলিশের কিছু দাবিদাওয়া পূরণ করা হয়। এর মধ্যে পুলিশপ্রধানকে দেয়া হয় সিনিয়র সচিবের মর্যাদা। পুলিশ মহাপরিদর্শকের পাঁচটি পদ সৃষ্টির ঘোষণা দেয়া হয়। পুলিশের জনবল ও কাজের পরিধি বেড়েছে।


Logo