সংঘাত নিরসনে আলোচনার আগ্রহ দেখালো আর্মেনিয়া

3 October 2020, 1:11 PM
বাংলাদেশ

আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্ততাকারীদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে আর্মেনিয়া। বিরোধপূর্ণ নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এমন অবস্থায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি পুনপ্রতিষ্ঠায় ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। তবে একই সঙ্গে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে যে কোনও আগ্রাসনেরও কড়া জবাব দেওয়া অব্যাহত রাখা হবে বলেও সতর্ক করা হয় ওই বিবৃতিতে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনের সংঘাতে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ওই অঞ্চলে আর্মেনিয়ার সমর্থিত একটি বাহিনী জানিয়েছে নতুন সংঘাতে ৫৪ জন সেনা নিহত হয়েছে। এনিয়ে আর্মেনিয়া এবং তাদের সমর্থিত বাহিনীর নিহত সদস্যের সংখ্যা ১৫৮ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে আজারবাইজানের তরফে কোনও সেনা সদস্যের প্রাণ হারানো কথা স্বীকার না করলেও জানিয়েছে আর্মেনিয়ার গোলাবর্ষণে নতুন করে ১৯ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। সংঘাত অব্যাহত থাকলেও আর্মেনিয়ার বিবৃতির মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বোঝা যাচ্ছে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা সম্ভব হতে পারে। তবে এই সংঘাতে আজারবাইজানকে সমর্থন দেওয়া তুরস্ক বলছে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে হলে আর্মেনিয়াকে অবশ্যই সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। শুক্রবার ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইগি ডি মাইও’র সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন, অচলাবস্থার কারণে আর্মেনিয়া ‘হামলা চালানোর এবং অন্য দেশের সীমানায় আর্মেনীয় জনগণকে অবৈধ বসতি স্থাপন করতে দিতে উৎসাহ পেয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কারাবাক অঞ্চল নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি সত্যিই কিছু করতে চায় তাহলে তাদের উচিত আজারবাইজানের ভূখণ্ড থেকে আর্মেনিয়াকে সরে যেতে বলা।’ এ লক্ষ্যে যেকোনও পদক্ষেপের সঙ্গে তুরস্ক থাকবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। উল্লেখ্য, নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে অবস্থিত হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৬ এবং এই বছরের শুরুতেও সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ।


Logo