মিরপুরে পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ভিডিও পাঠিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

৩ November, ২০২৬ | ৭:১৬ AM
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অন্তত তিনজনের মুঠোফোন থেকে নাশকতার ছবি ও ভিডিও একটি নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠানোর প্রমাণ তারা পেয়েছে। এসব ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর তিন আসামির মুঠোফোনে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে এসেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভাষ্যমতে, যে ব্যক্তির মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর টাকা এসেছে, তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা। ইলিয়াস মোল্লা ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, মিরপুরের গাড়ি পোড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আলিফ মোল্লার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পোশাকশ্রমিকেরা বর্তমানে সাড়ে ১২ হাজার টাকা থেকে মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন। ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন জায়গায় দুই দিন ধরে শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। সোমবার মিরপুরে বিক্ষোভের চেষ্টা হলে পুলিশ ধাওয়া দেয় ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান ছিল এবং সেখানে দাঙ্গা দমনের যান ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে পুলিশের বাধার মুখে শ্রমিকেরা বড় ধরনের বিক্ষোভ করতে পারেননি এবং সড়ক স্বাভাবিক ছিল।

সরকার রোববারই শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্দোলনে মুখোশধারী বহিরাগতরা অনুপ্রবেশ করেছে যারা শ্রমিক নন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “পতিত স্বৈরাচারের ফ্যাসিবাদের সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। যাঁরা সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন, তাঁদের পেছনে যাঁরা ইন্ধন দিচ্ছেন, তাঁরা চিহ্নিত হয়েছেন।”

পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্রের দাবি, মিরপুর, সাভার ও আশুলিয়ায় নাশকতার জন্য লোক সংগঠিত করতে ২৫টির মতো হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করা হয়েছে। এসব গ্রুপ থেকে পুলিশের অবস্থান ও হামলার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতো। রোববার পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ডিবি গ্রেপ্তার করেছে ১১ জনকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাহমুদুর রহমান জুয়েল (৩৮), মো. অলিউল্লাহ অনিক (২০), মো. কামাল গাজী (৩২), আলিফ হোসেন ইমন (২৬), রমজান সরকার (১৮), মো. মাহিম মোল্লা (১৮), মো. জুবায়ের ইসলাম ওরফে জিসান (২২), মো. আরিফ আকন্দ (২৯), মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ (২৬), মো. আরিফ (১৮) ও মো. নাহিদ হাসান (১৮)।

বিজ্ঞাপন

সোমবার পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠালে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আদালতে তাঁদের কোনো আইনজীবী ছিলেন না এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজনদের পাওয়া না যাওয়ায় পুলিশের দাবি সম্পর্কে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচটি মামলা করেছে। মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাতনামা এক হাজারের বেশি আসামি করা হয়েছে। সোমবার ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মহিদুল ইসলাম মিরপুর ১০ নম্বরে সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে শ্রমিকদের পাশাপাশি অন্য অপরাধীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(more…)