প্রতিশোধ নেওয়া আমাদের চরিত্র নয়’, দেশে ফেরা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই: শেখ হাসিনা
৩১ October, ২০২৬ | ৮:৩৪ PM
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মনে তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে কোনো শঙ্কা তৈরি হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না বলে জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আন্দোলনের নামে যারা বিভ্রান্ত হয়েছেন, তাঁরাও এই দেশের নাগরিক। তাঁদের প্রতি রাগ নয়, বরং করুণা করা যায়। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন,
‘প্রতিশোধ নেওয়া তো আমাদের চরিত্র নয়! আমরা ২০০৯ সালে সরকারে এসেও কোনো প্রতিশোধের দিকে যাইনি। যারা আন্দোলনের নামে বিভ্রান্ত হয়েছে, তারাও তো এই দেশেরই নাগরিক। এদের ওপর রাগ নয়, করুণা করা যায়। আল্লাহ তাদের হেদায়েত দিক, যেন নিজেদের ভুল বুঝতে পারে। আমি তো সবার জন্যই রাজনীতি করি—আমার পক্ষে থাক বা বিপক্ষে।’শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ধরনের প্রচারণাও চলছে। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন পক্ষের অনলাইন প্রচারণায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কাউকে বাঁচতে দেওয়া হবে না—এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চায়ের দোকানের সাধারণ আলোচনা থেকে শুরু করে চিত্রনায়িকা বাঁধনের বক্তব্যেও একই ধরনের আশঙ্কার কথা উঠে আসছে। এসব বক্তব্য ও প্রচারণা আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সমাজের একটি অংশের মধ্যে ভীতির পরিবেশ তৈরি করছে। তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যে সেই আশঙ্কার বিপরীতে প্রতিশোধ না নেওয়ার অবস্থানই উঠে এসেছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে কাউকে ব্যক্তিগত শত্রু হিসেবে দেখেন না। তাঁর মতে, রাজনৈতিকভাবে তাঁর পক্ষে কিংবা বিপক্ষে—সব নাগরিকের জন্যই তিনি রাজনীতি করেন। এ প্রসঙ্গে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার পর শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইতিহাসও সামনে আসে। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে তিনি পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। তাঁর দেশে ফেরার পর প্রতিশোধের পথ বেছে না নিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচার রাষ্ট্রীয় ও আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার উদ্যোগের বিষয়টি তাঁর বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে তুলনীয়। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো,
রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে প্রতিশোধ নেওয়া তাঁর রাজনীতির আদর্শ নয়। বরং তাঁর পক্ষে কিংবা বিপক্ষে—সবাইকে দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করার কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
