জাপান-বাংলাদেশ ইপিএঃ চার বছর পরিশ্রমের ফসল; রপ্তানিতে নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে কার্যকরের সম্ভাবনা
দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। জাপানের সংবাদমাধ্যমের ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সরকার সংসদীয় অনুমোদনের জন্য চুক্তি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি একটি সম্ভাব্য সময়সীমা, নিশ্চিত কার্যকর হওয়ার তারিখ নয়। বাংলাদেশের জন্যও চুক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন: রপ্তানিকারকদের জন্য পণ্যভিত্তিক শুল্ক সুবিধা ও উৎপত্তিবিধি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া। আন্তর্জাতিক মান, পণ্যের গুণগত মান, শ্রম অধিকার ও পরিবেশগত শর্ত পূরণে সক্ষমতা বাড়ানো। কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নত করে রপ্তানি ব্যয় কমানো। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জাপানের বাজারে প্রবেশে তথ্য ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া। জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করা। বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০২২ সালে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ থেকে ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নীতিগত সমঝোতা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি এগিয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করা এবং এর সুযোগগুলো বাস্তবে কাজে লাগানো। সঠিক নীতি, প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন, উন্নত লজিস্টিকস ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ইপিএ বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষর প্রথম ধাপ; বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লাভ নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়ন ও রপ্তানিকারকদের প্রস্তুতির ওপর।
