যেভাবে গ্রেফতার হলেন আমিনী

১৯ October, ২০২৬ | ১২:১৮ AM
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে এই মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফজলুল হক আমিনীকে নিয়ে তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন। মামলার পর গ্রেফতার এড়াতে ভিন্ন সিম ও ফোন ব্যবহার করছিলেন প্রধান আসামি আমিনী। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দেবহাটা সার্কেল, কালীগঞ্জ থানা, দেবহাটা থানা ও এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন)-৬-এর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে আমিনীকে গ্রেফতার করেন। দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও প্রযুক্তির সহায়তায় আমিনীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় তার নিজস্ব মুঠোফোন সঙ্গে ছিল না। তিনি অন্য সিম ও মুঠোফোন ব্যবহার করছিলেন। ওই সিম ব্যবহার করে একজনের সঙ্গে নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলেন। যোগাযোগের সূত্র ধরেই তাকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এখনও উল্লেখযোগ্য তথ্য মেলেনি। আজ আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’ গত মঙ্গলবার দেবহাটায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শামীমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি দেবহাটার সুবর্ণাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এতে আমিনীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত শুক্রবার ভোরে পুলিশ এজাহারভুক্ত ৫ ও ৬ নম্বর আসামি মোক্তার হোসেন খান (৫৩) ও আসাদুল ইসলাম মোল্যাকে (৪৬) গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। ওসি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে সোমবার শামীম (৩৮) ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ধর্ম অবমাননাকর অভিযোগ উঠলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শামীমের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়। ওই দিন স্থানীয় একটি বাজারে শামীমকে প্রথম মারধর করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে তিনি স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তখন একদল লোক চেম্বার থেকে শামীমকে বের করে তাকে আবার মারধর করে। পরে পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে রাতে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলা হয়। সেখান থেকে শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার পেটানো হয়। পরে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শামীম মারা যান। শামীম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করা হয়।