দিল্লি’তে হল্লা: “আমরা বাংলাদেশ বা নেপাল নই, ক্ষমতার পরিবর্তন হবে গণতান্ত্রিক পথেই; অসাংবিধানিক বা সহিংসতার মাধ্যমে না” – প্রকাশ রাজ

১৮ October, ২০২৬ | ১২:০৫ AM
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

অভিনেতা ও অ্যাক্টিভিস্ট প্রকাশ রাজ শুক্রবার শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের আহ্বানে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, এই পরিবর্তন আসতে হবে নির্বাচন ও সাংবিধানিক পথে। এ ক্ষেত্রে তিনি ভারতকে বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে তুলনা করে পার্থক্য দেখিয়েছেন, যেখানে গণবিক্ষোভে যথাক্রমে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সরকারের পতন ঘটেছিল। নেহা ভোরার বাংলাদেশের আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হওয়ার মন্তব্যের পর এই বক্তব্য এসেছে। নেহার মন্তব্য ঢাকা ও দিল্লি, দুই জায়গাতেই রাজনৈতিক সমালোচকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে। ১৪ অক্টোবর নেহা ভোরা আঞ্চলিক জেন-জি প্রতিরোধের ঢেউ শুরু করার কৃতিত্ব বাংলাদেশের তরুণদের দিয়ে বলেছিলেন, “আমরা জানি, এই দেশে আমরা সর্বত্র যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তা প্রথম শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন।” প্রকাশ রাজের মন্তব্য নেহার মন্তব্যের ঠিক উল্টো। তিনি স্পষ্টভাবে “সাংবিধানিক পথের” কথা বলেছেন, কোনো অসাংবিধানিক পথ কিংবা সহিংসতা বা অস্ত্রের মাধ্যমে নয়। উত্তর প্রদেশ থেকে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত একটি নির্বাচনী লড়াইয়ের রূপরেখা তুলে ধরে রাজ বলেন, “আমরা এই শাসনের পতন চাই, এবং এই দেশে আমরা গণতান্ত্রিক উপায়েই তা ঘটাব।” তিনি আরও বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আছেন আম্বেদকর। আমাদের আছেন গান্ধী। আমাদের আছেন ভগৎ সিং। আমাদের আছে সংবিধান। আমাদের ভোটের অধিকার আছে।” এই সংগঠনটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) কথিত অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ করে আসছে। রাজ অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিক্ষোভকারীদের মুখ বন্ধ করতে বলপ্রয়োগ করছে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করাই সরকারের পদত্যাগের দাবিকে উসকে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা বলপ্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনী পরিবর্তনের আহ্বানকে নৈরাজ্য বলার ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, নাগরিকরা প্রশ্ন করা, বিক্ষোভ দেখানো ও ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকারই প্রয়োগ করছেন। তিনি বলেন, “আমরা সশস্ত্র নই। আমরা সংবিধান দিয়ে সশস্ত্র। আমরা প্রতিবাদের অধিকার দিয়ে সশস্ত্র।” শুক্রবারের তিরঙ্গা পদযাত্রার আগে আটকের ঘটনা নিয়েও রাজ প্রশ্ন তোলেন। এ সময় তিনি জনগণকে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনে উৎসাহিত করার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রচারণার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি মোদিজিকে জিজ্ঞেস করছি, আপনার ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ স্লোগানের কী হলো? এই দেশের তরুণরা তিরঙ্গা হাতে হাঁটতে চায়।” তিনি নারীসহ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের সহিংসতার অভিযোগ করেন এবং বিরোধী দলগুলোকে শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে বিষয়টি তুলতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নাগরিকরা শান্তিপূর্ণ রাজপথের বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। রাজ কৃষক, সংযুক্ত কিষান মোর্চা এবং সুশীল সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিক্ষোভের পরবর্তী ধাপে আরও বড় জমায়েত রাস্তায় নামবে।