প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, টাকা চেয়ে বিভিন্ন মহলে চিঠি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের আয়োজন ঘিরে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা চাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি থাকবেন উল্লেখ করে পাঠানো এক চিঠিতে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় তিন হাজার অংশগ্রহণকারীর কথা উল্লেখ করে পৃষ্ঠপোষকতা চাওয়া হয়েছে বিভিন্ন মহলের কাছে। এ ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তারা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়ার সই করা চিঠিটি ৭ই অক্টোবর তারিখে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২০শে অক্টোবর ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের মধ্যে সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য খেলাধুলা, মিনি ম্যারাথন, শিশু আনন্দমেলা, র্যাফেল ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি বর্ষীয়ান সাংবাদিকদের নিয়ে স্মরণিকা প্রকাশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন আয়োজনে প্রায় তিন হাজার অংশগ্রহণকারী—সদস্য সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা—অংশ নেবেন। পুরো আয়োজনের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা। এই আয়োজন সফল করতে প্রাপকের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রত্যাশা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মরণিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া প্রচলিত হলেও প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি উল্লেখ করে এভাবে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একটি স্মরণিকা বের হয়। তাতে আমরা বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার এমন ঘটনা এই প্রথম।’ একটি ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, চিঠি পাঠানোর সময় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে তাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য ছিল না। তার ভাষ্য, চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি থাকবেন উল্লেখ করার বিষয়টি পৃষ্ঠপোষকতার অনুরোধকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। এতে আর্থিক সহায়তা না দিলে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে—এমন ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো একটি আয়োজনে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পৃষ্ঠপোষকতার শর্ত এবং অর্থ ব্যয়ের হিসাব স্পষ্ট থাকা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে অর্থ সহায়তা চাওয়া হলে তার উপস্থিতি নিশ্চিত কি না এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মতি রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা বলে আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ সহায়তা চাওয়ার ঘটনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাদের বক্তব্য জানা যায়নি এখনো।
