জবি ক্যাম্পাসে পশু জবাই গরুভোজ কর্মসূচি পালিত
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে পূর্বঘোষিত ‘জবিয়ানদের গরুভোজ’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার প্রশাসনিক ভবন ও গণিত ভবনের মাঝের সড়কে গরু জবাই করে পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মাংস রান্না করা হয়। বিকেলে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া থেকে গরুর মাংস ও খিচুড়ি বিতরণ করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ছয়টি বুথে খাবার বিতরণ শুরু হয়। খাবার সংগ্রহ করতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে গতকালের কর্মসূচিতে অংশ নিতে এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) এজিএস মাসুদ রানা, সমাজসেবা সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবিব মোহাম্মদ ফারুক এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মেহেদী হাসান। জকসুর নির্বাচিত কমিটির ভিপি, জিএসসহ অধিকাংশ সদস্য ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ৩০০০ জন। গতকালের গরুভোজের জন্য এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। আয়োজকরা জানান, পশু জবাই-সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে ‘জবিয়ানদের গরুভোজ’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু ও একটি ছাগল কেনা হয়। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন চলে। নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে পাঠানো টোকেন নম্বরের ভিত্তিতে খাবার দেওয়া হয়। নিবন্ধন ফি ছিল জনপ্রতি ৭০ টাকা। গরুভোজে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ভুষার শেখ বলেন, আজকের এই গরুর মাংসের ভোজ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার জন্য নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. আজম খান বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি, কারও কাছ থেকে অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অনুষ্ঠানের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। এদিকে গরুর মাংস রান্নার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা বাড়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জকসুকে দায়ী করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জবি শাখা। ক্যাম্পাসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় শিক্ষার্থীদের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার সংগঠনের শাখা সভাপতি ইভান তাহসীব ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ এক যৌথ বিবৃতিতে এ বক্তব্য দেন। এর আগে গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা স্নাতকজীবন শেষ হওয়ার আনন্দে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন। মন্দিরসংলগ্ন মুক্তমঞ্চ এলাকায় রান্না এবং অস্থায়ী চুলা তৈরিতে মন্দির নির্মাণের জন্য রাখা ইট ব্যবহার নিয়ে কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী আপত্তি জানান। পরে আয়োজকরা স্থান পরিবর্তন করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে রান্না করেন। এ ঘটনায় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করে।
