সরকারি জমি দখল করে জামায়াত আমির বললেন, “এখন আমাদের সময়”
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চার বিঘা সরকারি মাঠ ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সলপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির হেকমত আলী সরকারের বিরুদ্ধে। এতোদিন স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা ওই মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলত। এখন সেখানে চলছে চাষাবাদ। মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জমিটি সরকারি বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে দখলবাজ জামায়াত নেতা হেকমত আলীর বক্তব্য, জমিটি তাদের নিজস্ব এবং এ নিয়ে মামলা চলছে। ঘটনাটি উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের নওকৈর পূর্বপাড়া গ্রামের। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং পরদিন শুক্রবার সকালে সরকার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ট্রাক্টর দিয়ে মাঠটি চাষ করেন। ফলে খেলাধুলার জন্য মাঠটি আর উপযোগী থাকেনি। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেনের ভাষ্য, জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। ২০১৯ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান গৃহহীনদের জন্য সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনা করে মাটি ভরাট করেছিলেন। প্রকল্পটি অনুমোদনে দেরি হওয়ায় তখন থেকে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা মাঠটিতে নিয়মিত ফুটবল ও ক্রিকেট খেলত। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠটি চাষ করেছেন হেকমত আলী সরকার, আল-আমিন সরকার, নূর মোহাম্মদ সরকার, ওমর আলী সরকার, হারান সরকার ও তোফাজ্জল সরকার। তাদের এই উদ্যোগে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জায়গা বন্ধ হয়ে গেছে। হেকমত আলী সরকার অবশ্য জমিটি তাদের বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের জিম্মি করে জমিটি দখল করে মাটি ভরাট করেছিল। তিনি বলেন, “এখন আমাদের সময় এসেছে, তাই আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছি।” জমিটির হালনাগাদ খাজনা-খারিজ আছে কি না, জানতে চাইলে হেকমত আলী বলেন, খাজনা-খারিজ নেই, তবে মামলা চলছে। এদিকে মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা। সলপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সাবেক চেয়ারম্যান শওকত ওসমান সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট করেছিলেন। এরপর জমিটি অব্যবহৃত পড়ে ছিল; স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণেরা সেখানে খেলাধুলা করত। আবদুল মান্নান আরও জানান, সরকারি জমি ব্যক্তিগত চাষাবাদে ব্যবহারের অভিযোগটি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাবেন। উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
