ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী: সহিংসতা ছড়িয়ে ‘বাংলাদেশ মডেলে’ সরকারের পতন ঘটাতে চাইছে কংগ্রেস
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সাম্প্রতিক আন্দোলনের বিষয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার অভিযোগ, কংগ্রেস দেশে ‘সহিংসতা ছড়িয়ে সরকার পরিবর্তন’ করতে চায়। শুক্রবার লক্ষ্ণৌতে সংবাদ সম্মেলনে রাজনাথ বলেন, “সহিংসতার মাধ্যমে বাংলাদেশ মডেলে সরকার পরিবর্তন করতে চায় কংগ্রেস। তাদের এই আন্দোলন জ্ঞানেশ কুমার কিংবা এসআইআরের (ভোটার তালিকা সংশোধন) বিরুদ্ধে নয়; বরং সরকার পতনের লক্ষ্যে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ।” রাজনাথের অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকার সময় কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের ‘হাতের পুতুল’ করে রেখেছিল। তিনি বলেন, “১৯৯৩ সালে কংগ্রেস রাতারাতি নির্বাচন কমিশনে পরিবর্তন এনেছিল। তখনকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার নবীন চাওলাকে অপসারণের সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু পরে কংগ্রেস তাকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদে উন্নীত করে।” তিনি আরও বলেন, “১৯৯৩ সালের আগে কোনো ভোটার পরিচয়পত্র ছিল না। ভোটারদের পরিচয় প্রমাণের মতো কিছুই ছিল না। ভোটার পরিচয়পত্র চালু হওয়ার পর থেকে কংগ্রেস আর এককভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি।” প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, এসআইআর এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে কংগ্রেসের বিক্ষোভের সঙ্গে মূলত ভোটার তালিকার প্রশ্ন জড়িত নয়। তার মতে, স্বাধীনভাবে কাজ করা সাংবিধানিক ‘প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার’ চেষ্টা হিসেবেই এই আন্দোলন করা হচ্ছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে রাজনাথ বলেন, গণতন্ত্র কাউকে সহিংসতার পথ বেছে নেওয়ার অধিকার দেয় না—এ কথা রাহুলের বোঝা উচিত। তিনি আরও বলেন, “রাহুল বিশৃঙ্খলার রাজনীতি করছেন।”
