ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নিক্ষেপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ আপাতত থমকে আছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় লড়াই শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ইরানের ওপর সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হতে পারে। ওয়াশিংটন বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন অবগত সূত্ররা। সিএনএনে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি)’ বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এই বোমাটি ‘মাদার অব অল বোম্বস’ হিসেবে বেশি পরিচিত। তবে বোমাটির কার্যকারিতা নিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তা সন্দেহও প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার সক্ষমতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, এমওএবি মূলত ‘ইনফরমেশন অপারেশন’ ধরনের অস্ত্র। এটি বিশাল এলাকা খালি করে দিতে দারুণ কার্যকর। তবে এর বাইরে খুব বেশি কিছু করতে পারে না। সূত্রটি আরও জানায়, বোমাটিকে কোনো কিছুর গভীরে প্রবেশকারী (ডিপ পেনিট্রেশন) ওয়ারহেড হিসেবে তৈরি করা হয়নি। তবে বৃহৎ পরিসরে অস্ত্রটি ব্যবহারের কারণে বেসামরিক প্রাণহানির উদ্বেগ আছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। এর আগে ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে একটি বাঙ্কারে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর আস্তানা লক্ষ্য করে ‘এমওএবি’ বোমা নিক্ষেপ করেছিল মার্কিন বাহিনী। এতে ৯০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়। সম্ভাব্য এমন পদক্ষেপ কার্যকরের আগে আপাতত মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সমাবেশে যোগ দিয়ে নিজ দলের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় রিপাবলিকান পার্টির ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলেছে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে এই যুদ্ধের প্রয়োজন ছিল। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কোনো লক্ষ্য থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক তৎপরতায়ও অচলাবস্থা চলছে। অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ওয়াশিংটন গত কয়েক সপ্তাহে সামরিক অভিযান কমিয়ে এনেছে।
