পাকিস্তানের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন বিজেপি নেতা
পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ভারত পাকিস্তানের পাশে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজস্থান রাজ্যের সভাপতি মদন রাঠোর। তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জয়পুরে এক বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর এনডিটিভির। মদন রাঠোর বলেন, পাকিস্তান ভারতের প্রতিবেশী দেশ, তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার এটি বোঝা প্রয়োজন। ভারতের ক্ষেত্রে... যদি আজ যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে আমরা পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াব, কারণ তারা আমাদের প্রতিবেশী। কিন্তু যখন বিষয়টি আমাদের নিজেদের মধ্যে হয়, তখন আমরা ভারতের পাশে দাঁড়াই। তাই না? এটাই আমাদের বুঝতে হবে।’ তার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেসের মুখপাত্র শামা মোহাম্মদ রাঠোরকে ‘দেশবিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন। এক্স বার্তায় তিনি লেখেন, ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি বিজেপির ভালোবাসা আবারও প্রকাশ্যে এলো—যে পাকিস্তান আমাদের সেনা ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। রাজস্থান বিজেপি সভাপতি মদন রাঠোর বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলে তিনি পাকিস্তানের পক্ষে থাকবেন। এই দেশবিরোধীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের জানানো হোক।’ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টিও (আপ) রাঠোরের বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছে। দলটি বলেছে, ‘বিজেপির রাজস্থান রাজ্য সভাপতি মদন রাঠোরের বক্তব্য: আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলে আমরা পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াব! সাধারণ মানুষ যখন প্রশ্ন তোলে, তখন তাদের পাকিস্তানি বলা হয়; তরুণরা যখন কণ্ঠ তোলে, তখন তাদের সন্ত্রাসী বলা হয়! কিন্তু যখন বিজেপির কোনো নেতা পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেন, তখন মোদির জাতীয়তাবাদ কোথায় হারিয়ে যায়? যে বিজেপি পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলে, তারা কি দেশদ্রোহী নয়, মিস্টার মোদি?’ বিজেপি নেতার ব্যাখ্যা পরে মদন রাঠোর দাবি করেন, তার বক্তব্যকে ‘বিকৃত’ করা হয়েছে এবং এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা ‘মোটেও উপযুক্ত নয়’। তার দাবি, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের প্রেক্ষাপটেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। বিজেপির ওই নেতা বলেন, ‘হ্যাঁ, মানুষ সেখান থেকে কেবল শেষ দুটি লাইন তুলে ধরেছে। অথচ আমি খুব স্পষ্টভাবেই বলেছিলাম যে, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে ভারত হেরে গেলে যে ব্যক্তি আতশবাজি ফাটায়, সে দেশপ্রেমিক নয়। হ্যাঁ, যদি যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে থাকে, তবে সেটি ভিন্ন বিষয়.’ তার ভাষ্য, ‘এখন যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে তাদের মনে আমার প্রতি অসৎ উদ্দেশ্য ছিল।’
