চুয়েটে ১৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ কয়েকজন, অসুস্থ একাধিক
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবন-২ এ অবরুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন, প্রকৌশলী শাহরিয়ার ও প্রকৌশলী টিটু মো. সোহান। সোমবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও টেকনোলজিস্ট বাসু দেব ভবনটিতে প্রবেশ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপের সিস্টোলিক মাত্রা ১৭০ এবং ডায়াস্টোলিক মাত্রা ১০০ মিলিমিটার পারদ পাওয়া গেছে। পরে তাকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, প্রকৌশলী টিটু মো. সোহানের রক্তচাপের সিস্টোলিক মাত্রা ১৪০ ও ডায়াস্টোলিক মাত্রা ৯০ মিলিমিটার পারদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত অন্যদেরও স্যালাইন দেওয়া হয়। এর আগে অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম মোবাইলে চিকিৎসককে ডেকে পাঠান। পরে আলোচনা সাপেক্ষে চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্টকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয় শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, আমাদের দুজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। তাই আমি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছি। এখানে যেহেতু সবাই দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন, তাই সবাই অসুস্থ ও ক্লান্ত অনুভব করছেন। উল্লেখ্য, নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২ এর তালা ভেঙে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তার সঙ্গে চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও প্রবেশ করেন। এরপর উপাচার্য ও তার সহযোগীদের ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তালা ঝুলিয়ে দেন। সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজন। নবনিযুক্ত উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ভবনের তালা খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
