৬ মাসে অন্তত ১৮৭ শিশু যথেচ্ছ গ্রেপ্তার, ১২৭ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে: মানবাধিকার সংস্থা জেএমবিএফের উদ্বেগ

৫ October, ২০২৬ | ৬:৩৯ PM
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ) গত ১লা এপ্রিল থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শিশুদের যথেচ্ছ গ্রেপ্তারের ওপর ছয় মাসের মনিটরিং প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে সারা দেশে অন্তত ১৮৭ শিশুকে যথেচ্ছ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের অধীনে বাংলাদেশে শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা, শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও ন্যায়বিচার ক্ষুণ্ণ করে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটেছে। ৫ই অক্টোবর প্যারিসের সদর দপ্তর থেকে সংগঠনটি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এটি সংগঠনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেস রিলিজ আকারে প্রকাশিত হয়। একইসঙ্গে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল, জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়, যথেচ্ছ আটকের ওপর জাতিসংঘ ওয়ার্কিং গ্রুপ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক, ইউনিসেফ সদর দপ্তর, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার উপকমিটি, ইউরোপীয় কমিশনের সদর দপ্তর এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোতে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়। প্রতিবেদন অনুসারে, মে মাসে সবচেয়ে বেশি শিশুকে যথেচ্ছ গ্রেপ্তার করা হয়—৬০ জন (৩২.০৯%)। সেপ্টেম্বরে ৪২ জন (২২.৪৬%), আগস্টে ৩৮ জন (২০.৩২%), জুনে ৩২ জন (১৭.১১%), এপ্রিলে ৯ জন (৪.৮১%) এবং জুলাইয়ে ৬ জন (৩.২১%) শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেএমবিএফ নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত অন্তত ১২৭ শিশুর (৬৭.৯১%) ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। আরও ২ জন শিশুকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে, ১ জনকে দ্রুত বিচার আইনে, ৫ জনকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এবং ১ জনকে সাইবার-সম্পর্কিত আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি ৫১ শিশুর (২৭.২৭%) ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা সংগঠন নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করতে পারেনি। মোট ৭৪ জন শিশুকে (৩৯.৫৭%) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থনে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মিছিল বা ফ্ল্যাশ মার্চের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়। আর ৫৭ জনকে (৩০.৪৮%) মিছিল বা রাজনৈতিক কার্যক্রমের প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়। নথিভুক্ত তথ্য অনুসারে, অন্তত ৬৯ জন শিশুকে (৩৬.৯০%) গ্রেপ্তারের পর চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। তবে ১১১ জন শিশুর (৫৯.৩৬%) ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পর তাদের কোথায় রাখা হয়েছে তা জেএমবিএফ নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। জেএমবিএফ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা শান্তিপূর্ণ মিছিল, সমাবেশ ও রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে শিশুদের স্বেচ্ছাচারী গ্রেপ্তার ও আটক অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় আটক শিশুদের মামলা দ্রুত পর্যালোচনা করে তাদের মুক্তি দিয়ে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ প্রত্যাহার করে শিশুদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ অন্যান্য কঠোর বিশেষ আইনের প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো আইনি কার্যক্রমে তাদের বয়স, সর্বোত্তম স্বার্থ ও শিশু-সংবেদনশীল বিচারপ্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং আটককে কেবল সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।