“তৃতীয় বিশ্বের নরক” থেকে অভিবাসন নিষিদ্ধের বিল নিয়ে ন্যান্সি মেইস: ভাষা ও নীতি দুটোই বিতর্কের কেন্দ্রে, মার্কিন জনমত বাড়ছে
রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেইস (সাউথ ক্যারোলাইনা) “থার্ড ওয়ার্ল্ড ইমিগ্রেশন মোরাটোরিয়াম অ্যাক্ট” নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন। বিলটি ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে উত্থাপিত হয় এবং এর লক্ষ্য ডজনখানেক “তৃতীয় বিশ্বের” দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা। সম্প্রতি ফেসবুক পোস্টে তিনি এ নিয়ে নতুন করে বক্তব্য দিয়েছেন। পোস্টে মেইস লেখেন, আমেরিকার জনগণ আর “খেলা” সহ্য করবে না। তাঁর অভিযোগ, ওই দেশগুলোর অনেকে বহিষ্কারাদেশ মানতে অস্বীকার করেছে এবং নাগরিকদের বিষয়ে প্রাথমিক যাচাইয়ের তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ “অধিকার নয়, সুযোগ”। তিনি বলেন, আমেরিকাকে “তৃতীয় বিশ্বের নরকে” পরিণত হতে দেওয়া হবে না। বিলে কী আছে: ফক্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, বিলটি ক্যারিবীয় অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ৩৯টি দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করবে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভ্রমণ নথিধারীদেরও আটকাবে। তালিকাটি ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান পূর্ণ বা আংশিক নিষেধাজ্ঞার তালিকার সঙ্গে মিলে যায়, অর্থাৎ নির্বাহী আদেশের বিষয়টি আইনে পরিণত করাই লক্ষ্য। স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী), কূটনীতিক, ন্যাটো কর্মী, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের অ্যাথলেট এবং মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা বিশেষ অভিবাসী ভিসাধারীরা ছাড় পাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতি ১৮০ দিনে নিষেধাজ্ঞা চালু, পরিবর্তন বা সম্প্রসারণ নিয়ে কংগ্রেসে প্রতিবেদন দিতে হবে। বিলটিতে কেস-বাই-কেস মওকুফের সুযোগও রাখা হয়েছে। সমালোচনা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: বিলটি হাউসে কঠিন পথের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা তো বটেই, কিছু রিপাবলিকানও কিউবা ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশ থেকে বৈধ অভিবাসনের পক্ষে। ফ্লোরিডা ইমিগ্র্যান্ট কোয়ালিশনের আইন বিশেষজ্ঞ টমাস কেনেডি বিলের নামকেই বর্ণবাদী ও সেকেলে ধারণার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, তালিকাভুক্ত কোনো দেশেই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী শ্বেতাঙ্গ নয়। মেইসের কার্যালয় এই সমালোচনার জবাব দেয়নি। বিলটি এমন সময়ে এল যখন মেইস নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন। মার্কিন জনমত কী বলছে: জনমতের চিত্র মিশ্র। সামগ্রিকভাবে অভিবাসন কমানোর পক্ষে সমর্থন বাড়ছে, কিন্তু নির্দিষ্ট দেশভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সমর্থন কম। – পিউ রিসার্চ সেন্টারের জানুয়ারি ২০২৬-এর জরিপে (৮,৫১২ জন অংশগ্রহণকারী) ৭৫টি দেশের মানুষের অভিবাসী ভিসা আবেদন স্থগিত করার নীতির বিরোধিতা করেছেন ৬০ শতাংশ। – ইকোনমিস্ট/ইউগভের জরিপে বৈধ অভিবাসন কমানোর পক্ষে মত বেড়েছে, বিশেষত রক্ষণশীল ও ট্রাম্প ভোটারদের মধ্যে। তবে অভিবাসনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু মনে করেছেন মাত্র ৬ শতাংশ। – ইউগভের আরেকটি জরিপে ট্রাম্পের অভিবাসননীতির প্রতি সমর্থন ছিল ৩৫ শতাংশ, অসমর্থন ৫২ শতাংশ। ম্যারকুয়েট ল স্কুলের জরিপে সীমান্ত নিরাপত্তায় ট্রাম্পের অনুমোদন ৫৪ শতাংশ হলেও বৃহত্তর অভিবাসননীতিতে ৪৫ শতাংশ। – একটি জরিপ-বিশ্লেষণ সাইটের (uspollingdata.com) তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্যালাপের জরিপে ৫৮ শতাংশ বলেছেন অভিবাসনের মাত্রা কমানো উচিত। অভিবাসন “আমেরিকার জন্য ভালো” বলে মনে করা মানুষের হার ২০২০ সালের ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬-এ ৪৪ শতাংশে নেমেছে। – একই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিমূর্তভাবে কঠোর সীমান্ত নীতির প্রতি সমর্থন থাকলেও গণ-বহিষ্কারের মতো নির্দিষ্ট পদক্ষেপে সমর্থন কমে যায়। অভিবাসন ২০২৪ সালে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থাকলেও ২০২৬ সালের মে মাসে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে। প্রেক্ষাপট: ট্রাম্প “তৃতীয় বিশ্বের” সব দেশ থেকে অভিবাসন “স্থায়ীভাবে স্থগিত” করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সময়ে আফগানদের অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ হয় এবং ১৯টি দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ড পুনর্মূল্যায়নের কথা জানায় ইউএসসিআইএস। সমর্থকদের যুক্তি, বহিষ্কারে অসহযোগিতা ও যাচাইয়ের ঘাটতি জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি। সমালোচকদের মতে, পুরো দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বৈষম্যমূলক এবং এতে বহু নির্দোষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
