রংপুরে চাল-আটার জন্য হাহাকার: ওএমএসের লাইনে হাতাহাতি-কাড়াকাড়ি
বাজারজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা নিম্নআয়ের মানুষ। একটু কম দামে চাল ও আটা কেনার আশায় খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) ট্রাক সেলে ছুটছেন তারা। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে পণ্য কিনতে এসে ক্ষোভ ও চরম বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গতকাল দুপুরে রংপুর নগরীর বৈরাগীপাড়া এলাকায় ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রিকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা, হাতাহাতি ও কাড়াকাড়ির ঘটনা ঘটে। কাকডাকা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ঘরে ফিরতে হয়েছে শত শত মানুষকে। খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওএমএস কার্যক্রমে জনপ্রতি পাঁচ কেজি চাল ৩০ টাকা কেজি এবং পাঁচ কেজি আটা ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকেই বৈরাগীপাড়ায় ট্রাক সেলের সামনে শত শত নারী-পুরুষ ভিড় করতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একক লাইনের পরিবর্তে তৈরি হয় একাধিক লাইন। ফলে পুরো এলাকায় তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডিলাররা স্বজনপ্রীতি ও কারসাজি করে পছন্দের মানুষকে পণ্য দিয়েছেন। ভোর থেকে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষকে পণ্য না দিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে চাল-আটা শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ নিয়ে লাইনে থাকা মানুষের মধ্যে দফায় দফায় ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। নগরীর কামাল কাছনা এলাকার হোসনেয়ারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও চাল-আটা পাইনি। বাসায় রান্না বন্ধের উপক্রম। ২৪ টাকা কেজি আটা আর ৩০ টাকা কেজি চালের জন্য আমরা গরিব মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি, অথচ দেখার কেউ নেই।” একই আক্ষেপের কথা জানান বৈরাগীপাড়ার বয়োবৃদ্ধ বেলাল হোসেন। সকাল ৯টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও চাল-আটা পাননি তিনি। নুরপুর, স্টেশন ও আলমনগর থেকেও একই অভিযোগ নিয়ে বহু মানুষকে খালি হাতে ফিরতে দেখা গেছে। কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাক সেলে দায়িত্বরত ডিলারের ম্যানেজার রমজান আলী বলেন, “আমাদের দৈনিক বরাদ্দ মাত্র এক টন চাল ও এক টন আটা, যা দিয়ে সর্বোচ্চ ২০০ জনকে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু লাইনে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ ভিড় করছেন। বরাদ্দ না বাড়ালে আমাদের পক্ষে সবাইকে দেওয়া সম্ভব নয়।” এ বিষয়ে খাদ্য বিভাগের তদারককারী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম জানান, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেশি থাকায় ওএমএস পণ্যের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। তবে দৈনিক বরাদ্দ সীমিত থাকায় সবাইকে পণ্য দেওয়া যাচ্ছে না। বরাদ্দ বাড়ানো গেলে এ সংকট ও বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমে আসবে।
