দুই পরাশক্তির স্বার্থের ফাঁদে রূপপুর: সাশ্রয়ী রুশ মডেল বনাম ব্যয়বহুল মার্কিন প্রযুক্তি- কোন পথে হাঁটবে বাংলাদেশ?

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
– এ,এস,এম শরিফুল হাসান (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও একটিভিস্ট।) , দৈনিক গণঅধিকার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক পারমাণবিক সহযোগিতা সমঝোতা এবং এর আগে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি মিলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরির প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ ২৫ সেপ্টেম্বর এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (Reciprocal Trade Agreement), যা ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত হয় আর বর্তমানের বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা, একটি নতুন পরিবর্তিত পরিস্থিতির আভাস দেয়, যেখানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানী নিরাপত্তা দুই সুপার পাওয়ারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিধি নিষেধের মাঝে পড়তে পারে। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে আগে থেকেই রূপপুর-সংক্রান্ত শর্ত চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে এমন একটি ধারা রয়েছে, যাতে বলা হয়েছে— বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি, জ্বালানি রড় বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিনতে পারবে না, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রের “অত্যাবশ্যকীয় স্বার্থ” বিপন্ন করে। এই শর্তটি মূলত রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পারমাণবিক সহযোগিতা ঠেকাতেই তৈরি বলে ধারণা করা হয়। চুক্তির অনুচ্ছেদ ৪.৩.৪ অনুযায়ী, বাংলাদেশ যদি চীন বা রাশিয়ার মতো “নন-মার্কেট ইকোনমি” দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করে, তাহলে পুরো চুক্তিই ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একইভাবে অনুচ্ছেদ ৩.২ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ-বিরোধী বিবেচিত দেশগুলোর সঙ্গে ডিজিটাল বা প্রযুক্তি চুক্তি হলেও তা পুরো চুক্তি বাতিলের কারণ হয়ে উঠতে পারে। জ্বালানি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম তামিম সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বা জ্বালানি রড আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে রূপপুর কেন্দ্র চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, রূপপুরের দুটি ১,২০০ মেগাওয়াটের চুল্লি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-দশমাংশ সরবরাহ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রূপপুর কাঠামোগতভাবেই রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল রোসাটম নির্মিত প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই প্রকল্প শুধু নির্মাণেই নয়, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবহৃত জ্বালানি (নিউক্লিয়ার ওয়েস্ট) ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রেও রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের মূল চুক্তিতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে জ্বালানি সরবরাহও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে বাংলাদেশের শুধু নির্মাণকালীন নয়, কেন্দ্র চালু রাখার পুরো সময়জুড়েই রুশ সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। বৈশ্বিক পারমাণবিক জ্বালানি চক্রের বাজার মূলত রাশিয়ার রোসাটম, চীনের সিএনএনসি, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিংহাউস এবং ফ্রান্সের ফ্রামাতমের মধ্যে বিভক্ত হওয়ায়, রুশ প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও প্রাথমিক চক্রের পর জ্বালানি সরবরাহ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া রূপপুরের সম্ভাব্য দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণও এই চুক্তির শর্তে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিকে ঢাকার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই চুক্তি সাধারণ শুল্ক-সংক্রান্ত চুক্তির চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত দায়বদ্ধতা তৈরি করে, এমনকি নির্দিষ্ট দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ও সীমিত করে—যা মূলত চীন ও রাশিয়াকে ইঙ্গিত করে বলে ধারণা করা হয়। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ চুক্তির পারমাণবিক-সংশ্লিষ্ট অংশটিকে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ বলে অভিহিত করে বলেছেন, এটি সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। স্বল্পমেয়াদী স্বস্তি, দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, রূপপুরের বিদ্যমান সরবরাহ চুক্তি যেহেতু মার্কিন চুক্তির আগে থেকেই কার্যকর, তাই তা আপাতত অক্ষুণ্ণ থাকতে পারে। তবে এই সুরক্ষা প্রাথমিক জ্বালানি চক্র-পরবর্তী সরবরাহ, ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কিংবা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পর্যন্ত বিস্তৃত নয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এছাড়া মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির জন্য সংসদীয় অনুমোদন প্রয়োজন কি না, সে প্রশ্নও এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তির উচ্চ ব্যয়: কেন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি কতটা ব্যয়বহুল যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রযুক্তি, বিশেষত ওয়েস্টিংহাউসের এপি১০০০ চুল্লি, নির্মাণ ব্যয় ও সময়ের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পগুলোর অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোগটল পারমাণবিক কেন্দ্রের তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট নির্মাণে প্রায় ৩৬.৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যেখানে জর্জিয়া পাওয়ারের ৪৫.৭ শতাংশ মালিকানার হিসাবে একটি ইউনিটের মূলধনি ব্যয়ই দাঁড়ায় প্রায় ২৩.৭৬ বিলিয়ন ডলারে। নির্মাণকালে প্রকল্পটি একাধিক বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির মুখে পড়ে, এমনকি ২০১৭ সালে ওয়েস্টিংহাউস দেউলিয়া ঘোষণা করে—যা মার্কিন পারমাণবিক শিল্পের সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা পারমাণবিক রপ্তানিকারকরা বছরের পর বছর ধরে চুল্লি রপ্তানিকে মূলত একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প হিসেবে দেখেছে, অন্যদিকে রাশিয়ার রোসাটম একে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। যদিও ওয়েস্টিংহাউস প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের অন্যতম উন্নত পারমাণবিক সরবরাহকারী, তবে যুক্তরাষ্ট্রে এপি১০০০ প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রথম প্রকল্পগুলোই কোম্পানিটির রপ্তানি-বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। রাশিয়ার সাশ্রয়ী প্যাকেজ মডেল যেভাবে আকর্ষণ করছে রাশিয়ার প্রস্তাব পশ্চিমা যেকোনো প্রতিযোগীর চেয়ে ভিন্ন। রোসাটম এমন একটি চুক্তি দেয়, যা কোনো পশ্চিমা সরবরাহকারী মেলাতে পারে না—একটি চুল্লি, দশকের পর দশক পরিচালন সহায়তা, এবং প্রকল্প ব্যয়ের ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কভার করা সার্বভৌম অর্থায়ন, যা ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য এবং রুশ রাষ্ট্র নিজেই তার নিশ্চয়তা দেয়। এছাড়া অধিকাংশ পশ্চিমা সরবরাহকারীর বিপরীতে রোসাটম চুল্লি নকশা, নির্মাণ, জ্বালানি সরবরাহ, অর্থায়ন, সেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন সহায়তা—সবকিছুই একটি রাষ্ট্র-সমর্থিত ছাতার নিচে একত্র করতে পারে। ভারতের কুদানকুলাম কেন্দ্র এই মডেলের বাস্তব উদাহরণ। রাশিয়ার আতমস্ত্রোএক্সপোর্ট দেশটির প্রথম বড় পারমাণবিক কেন্দ্র সরবরাহ করে দুটি ভিভিইআর-১০০০ চুল্লিসহ, রাশিয়া-অর্থায়িত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায়, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক কভার করেছিল। তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিটের জন্য ২০১২ সালে রাশিয়া ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি অর্থায়নে সম্মত হয়, যা ব্যয়ের ৮৫ শতাংশ কভার করে। একই ধরনের প্যাকেজ পেয়েছে বাংলাদেশও—রূপপুর কেন্দ্রের নির্মাণ চুক্তিতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই মডেল ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা রাশিয়ার প্যাকেজকেও ব্যাহত করতে পারে—ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নির্মাণ প্রায় তিন বছর পিছিয়ে যাওয়ায় কুদানকুলামে চারটি রুশ-নকশার চুল্লি সংযোজনের ব্যয় অর্ধেকের বেশি বেড়ে গেছে। বিশ্লেষক রূপেশ সাংখে সতর্ক করে বলেছেন, এই ব্যয়বৃদ্ধি বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভারতের মূল্য-সংবেদনশীল বাজারে পারমাণবিক সম্প্রসারণকে জটিল করে তুলতে পারে। তারপরও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য রাশিয়ার মডেল তুলনামূলক সহজলভ্য থেকে যাচ্ছে—কারণ সামনের ভারী পুঁজি বিনিয়োগ ছাড়াই, নিজস্ব ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থায়ন, এবং জ্বালানি সরবরাহ থেকে ব্যবহৃত জ্বালানি ফেরত নেওয়া পর্যন্ত পুরো জীবনচক্র একই প্যাকেজে পাওয়া যায়—যা মার্কিন মডেলে সচরাচর অনুপস্থিত। সর্বশেষ যে দেশে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির মূল শর্তে বলা হয়েছে, প্রধানত পিটসবার্গভিত্তিক ওয়েস্টিংহাউসকে ৩০ বছরের জন্য এপি১০০০-এর মতো পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণ ও জ্বালানি সরবরাহে একচেটিয়া অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ও সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই “১২৩ চুক্তি” স্বাক্ষর করেন, যার সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তিও যুক্ত ছিল। এর আগে পোল্যান্ডও ওয়েস্টিংহাউস প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পোল্যান্ড ও ওয়েস্টিংহাউস ইলেকট্রিক কোম্পানি দেশটির প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রাক-নকশা সহযোগিতা নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা ২০৩২ সাল নাগাদ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। এছাড়া ইউক্রেনেও মার্কিন প্রযুক্তির উপস্থিতি বাড়ছে। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ওয়েস্টিংহাউস দুটি এপি১০০০ চুল্লি নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে খমেলনিৎস্কি পারমাণবিক কেন্দ্রের পঞ্চম ও ষষ্ঠ ইউনিট হিসেবে, আর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ ও ইউক্রেন মিলে ওয়েস্টিংহাউসকে দিয়ে দেশটির ১৫টি চালু চুল্লি থেকে রুশ জ্বালানি সরিয়ে দেওয়ার কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া বাজারেও সম্প্রসারণ চলছে—অক্টোবরে ক্যামেকো ও ব্রুকফিল্ড যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা করে ওয়েস্টিংহাউস চুল্লি স্থাপন ত্বরান্বিত করতে, যার সঙ্গে অন্তত ৮০ বিলিয়ন ডলারের নতুন চুল্লি নির্মাণ প্রকল্প জড়িত। তবে সৌদি চুক্তিটি এখনো অনিশ্চয়তামুক্ত নয়—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষরের একদিনের মধ্যেই ঘোষণা দেন, এই পারমাণবিক চুক্তি সৌদি আরবের আব্রাহাম একর্ডে যোগদান ও ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্তসাপেক্ষ। সাম্প্রতিক মার্কিন-বাংলাদেশ পারমাণবিক সহযোগিতা সমঝোতা স্মারকটিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হলেও, ফেব্রুয়ারির বাণিজ্য চুক্তির রাশিয়া-চীন বর্জন সংক্রান্ত ধারার প্রেক্ষাপটে তা বাংলাদেশকে এক জটিল দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে—রূপপুরের টিকে থাকা যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঠিক সেই সম্পৃক্ততাকেই নিরুৎসাহিত করছে। এই পরিস্থিতি প্রকৃত সংকটে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটন “মার্কিন অত্যাবশ্যকীয় স্বার্থ” ধারাটি রোসাটম-সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে, তার ওপর—যা নিয়ে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক মহলেও এখনো বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।