যুবলীগকর্মীকে ধরতে গিয়ে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

ঢাকার ধামরাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তারে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনের বয়স ৬০ বছর। তিনি পেশায় কৃষক। তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার রিফাত আহমেদ যুবলীগের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে রিফাত নিজেকে যুবলীগের সক্রিয় কর্মী দাবি করলেও নেতা নন বলে জানিয়েছেন। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, কলিম উদ্দিনকে একটি পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, রিফাত আহমেদ যুবলীগের নেতা এবং তার নেতৃত্বে কিছুদিন আগে মিছিল হয়েছে। কাউলিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে রিফাতের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রিফাতকে বাড়িতে না পেয়ে তার বাবা কলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওসি বলেন, ‘তার পুরো পরিবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক। সে কারণে কলিম উদ্দিনকে পেন্ডিং একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’ তবে কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল না এবং তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না বলে জানিয়েছেন ওসি নিজেই। তার ভাষ্য, ‘তার নামে কোনো মামলা ছিল না। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক—এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ কলিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা বেগম জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন। পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর তার স্বামী দরজা খুলে দেন। এ সময় বাড়িতে তিনি, তার স্বামী, মেয়ে ও ছেলের বউ ছিলেন। হাসিনা বেগমের ভাষ্য, পুলিশ প্রথমে তাদের ছেলে রিফাতের বিষয়ে জানতে চায়। রিফাত বাড়িতে থাকেন না এবং রাজনৈতিক কারণে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ নেই—এ কথা জানানোর পর পুলিশ তার স্বামীকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী কৃষক, তিনি রাজনীতি করেন না। তার নামে কোনো মামলাও নেই। ছেলে রাজনীতি করে বলে আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে পুলিশ গ্রেপ্তার করে হয়রানির মধ্যে ফেলে দিল।’ কলিম উদ্দিনের মেয়ে হ্যাপী আক্তারও দাবি করেন, তার বাবা কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার ভাই রিফাত বাড়িতে আসেন না এবং পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগও নেই। ভাইকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবাকে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে রিফাত আহমেদ নিজেকে যুবলীগের সক্রিয় কর্মী দাবি করে বলেন, তিনি কোনো নেতা নন। পুলিশের অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যুবলীগের কোনো নেতা নই, সক্রিয় কর্মী, মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছি। আমার জন্য পুলিশ হয়রানি করতে আমার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে।’ পুলিশ জানিয়েছে, রিফাতকে গ্রেপ্তারের জন্যই তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অভিযানের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।