ইংল্যান্ডের সঙ্গে অনুমিতভাবেই হোয়াইটওয়াশ হলো পাকিস্তান

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

সিরিজজুড়ে একপেশে দাপট দেখানো ইংল্যান্ড শেষ টেস্টেও অনুমিত জয় তুলে নিয়েছে। তবে এজবাস্টনে জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর পথটা একেবারে সহজ ছিল না। স্বাগতিকদের কিছুটা কাঁপিয়ে দিয়েই ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে তারা। মাত্র ১৩০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিরাট চাপে পড়েছিল ইংল্যান্ড। মোহাম্মদ আব্বাসের প্রথম ওভারেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার বেন ডাকেট ও এমিলিও গেই। ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক জো রুটও প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান, বল স্লিপ গলে সীমানায় পৌঁছায়। এরপর মোহাম্মদ আলীর বলে বোল্ড হলেও ভাগ্য রুটের সঙ্গ দেয়; আম্পায়ার ‘নো বল’ ডাকায় বেঁচে যান তিনি। আব্বাসের বলে স্লিপে আরও একটি ক্যাচ উঠলেও ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় তা লুফে নেওয়া যায়নি। এই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রুটকে। তরুণ জর্ডান কক্সকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ৫৭ বলে রুট তাঁর ফিফটি পূরণ করেন, এর কিছুক্ষণ পরেই কক্সও ফিফটি স্পর্শ করেন। ২৫তম ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। রুট ৬২ ও কক্স ৫৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। এর আগে শুক্রবার ম্যাচটি শেষ দুই দিন গড়াবে কি না, তা নিয়েই সংশয় ছিল। তবে সফরকারী দলের ৯ নম্বর ব্যাটসম্যান ও অভিষিক্ত পেসার রেজাউল্লাহ ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান। মাত্র ৬৩ বলে ৯টি ছক্কায় ৮১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন তিনি। প্রথম ইনিংসে বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়া ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ৯ম উইকেটে আরেক পেসার আব্বাসের (৪২) সঙ্গে ১২১ রানের জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দেন। রেজাউল্লাহর এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দলের মেজাজে কিছুটা ইতিবাচক হাওয়া আনলেও, তা পাকিস্তান দলের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রান এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরে আগেই ব্যাকফুটে থাকা দলটির জন্য এটি ছিল আরেকটি হতাশাজনক অধ্যায়। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের পর পাকিস্তানের ক্রিকেট আঙিনায় নাটকীয় সব ঘটনা ঘটে। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও সহকারী কোচ উমর গুলকে বরখাস্ত করা হয়। দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয় সাতজন ক্রিকেটারকে এবং তাঁদের স্থলাভিষিক্ত করা হয় আরও সাতজনকে—যার মধ্যে একজন ছিলেন রেজাউল্লাহ। শেষ টেস্টের একাদশে চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে গেলেও শেষপর্যন্ত লড়াই করার চেষ্টা চালিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হেরে দলীয় কোন্দল, ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পদত্যাগ ও বেন স্টোকসের অধিনায়কত্ব ছাড়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল ইংল্যান্ড। সেখান থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিতভাবেই তাঁদের বড় স্বস্তি দেবে। তবে আসল পরীক্ষা সামনে; আগামী ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং আগামী বছর অ্যাশেজের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে রুটের দলের সামনে।