সার সংকট ঘিরে উত্তরাঞ্চলে অস্থিরতা: গুদাম লুট, সড়ক অবরোধ, মজুতদার গ্রেপ্তার

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

আমন মৌসুমে সারের চাহিদা তুঙ্গে থাকার মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সার সংকট নিয়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত দুই দিনে অন্তত তিনটি জেলায় বিক্ষোভ, গুদাম ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। কুড়িগ্রামে ফের গুদাম লুট সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার একটি ডিলার পয়েন্টে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদামের বেড়া ভেঙে আনুমানিক শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। স্থানীয় ডিলার জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় সার বিতরণ শুরুর কথা থাকলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহায়তা চাইতে ইউএনওর কাছে যাওয়া হয়, আর ঠিক তখনই ধৈর্যহারা কৃষকেরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান। এ নিয়ে মতভেদও তৈরি হয়েছে — কেউ কেউ দাবি করেছেন প্রায় দেড়শ বস্তা সার সরানো হয়েছে, যদিও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভাষ্য, এটি লুট নয় বরং শান্তিপূর্ণভাবেই সার বিতরণ করা হচ্ছিল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া গণমাধ্যমকে জানান, এলাকায় সারের কোনো সংকট নেই এবং কৃষকেরা ধৈর্য ধরে সার সংগ্রহ করলে কোনো সমস্যা হবে না। গুজব থামাতে ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান। এর আগে গত ২৩ আগস্ট কুড়িগ্রামেরই ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় একটি ডিলারের গুদাম থেকে কৃষি বিভাগের হিসাবে ২০২ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা পটাশ সার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে সে সময়ও প্রশ্ন উঠেছিল বাস্তবে সংকট কতটা গুরুতর। লালমনিরহাটে মহাসড়ক অবরোধ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) লালমনিরহাট সদর উপজেলায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও তথাকথিত সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে কৃষকেরা লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন, ফলে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর অবরোধ প্রত্যাহার হলেও পরদিন সোমবারও একই দাবিতে ফের অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। মাগুরায় অবৈধ মজুত, গ্রেপ্তার দুই এদিকে মাগুরায় সংকটের মধ্যেই অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের কাছ থেকে ৩২৮ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। ঝিনাইদহের শৈলকুপায়ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি কমিটি। সংকট নাকি সরবরাহ-বিভ্রাট? স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তারা বারবার দাবি করছেন, বাস্তবে সারের কোনো ঘাটতি নেই — সমস্যাটা মূলত বিতরণ-ব্যবস্থাপনা ও কিছু ডিলারের গড়িমসি নিয়ে। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। আমন মৌসুমে সারের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকায় সরকার খোলাবাজারে সার বিক্রি ও কড়া নজরদারির উদ্যোগ নিলেও, একের পর এক জেলায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় প্রশ্ন উঠছে সরবরাহ-শৃঙ্খলার প্রকৃত চিত্র নিয়ে।