অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ইউনূসের থ্রি জিরোর পর এবার এলো তারেক রহমানের ‘থ্রি আর’ স্ট্র্যাটেজি

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

ড. ইউনূস অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্র সংস্কারের নামে ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব হাজির করেছিলেন। কিন্তু এ থেকে জাতি কী পেল- তা গবেষকরাই ভালো বলতে পারবেন। ইউনূস চলে গেল, এলো বিএনপি সরকার, সাথে এলো ‘থ্রি আর’ স্ট্র্যাটেজি! ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে তিন ধাপের ‘থ্রি আর’ স্ট্র্যাটেজি ঘোষণা করেছেন তারেক রহমান। অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জনে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আর্থিক শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ২রা সেপ্টেম্বর, বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনার কথা জানান। সংসদ সদস্য জানতে চান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে বর্তমান সরকার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কি না এবং থাকলে সেসব পরিকল্পনা কী। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য জাতীয় বাজেট বক্তৃতা ২০২৬-২৭-এ সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ লক্ষ্যকে কেবল জিডিপির আকার বাড়ানোর বিষয় হিসেবে দেখছে না সরকার। বরং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের সমন্বিত রূপান্তর হিসেবে বিষয়টিকে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠনে সরকার তিন ধাপের ‘থ্রি আর’ স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছে। প্রথম ধাপ—রিকভারি অ্যান্ড স্টেবিলাইজেশন। এক বছর মেয়াদি এই ধাপের মূল লক্ষ্য অর্থনীতির অবনতির ধারা রোধ করা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয় ধাপ—রেজিস্ট্রেশন। সরকারের প্রথম তিন বছরের এ ধাপে রাজস্ব ব্যবস্থা, বেসরকারি বিনিয়োগ, ব্যাংক ও আর্থিক খাত, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ, কৃষি, জ্বালানি এবং অবকাঠামোর সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তৃতীয় ধাপ—রিকনস্ট্রাকশন ফর এক্সেলেশন। আগামী পাঁচ বছরের এ ধাপে জাতীয় অর্থনীতিতে কাঠামোগত রূপান্তর, উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক সংযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করার কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের ঘরে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২.৭ শতাংশে এবং মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণের প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ব্যবসায়িক অনুমোদনের জন্য ‘বাংলা বীজ’ নামে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯টি সম্ভাবনাময় খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘এফডিআই হিট ম্যাপ’ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া পুঁজিবাজার, করপোরেট বন্ড এবং বিকল্প দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎসগুলো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী। রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়াতেও কাঠামোগত সংস্কার নেওয়া হয়েছে। ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপির অনুপাত বর্তমান ৮ শতাংশ থেকে ১১ শতাংশে এবং কর-জিডিপির অনুপাত ৬.৮ শতাংশ থেকে ৯.৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও বিনিয়োগের সুফল নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয়গুলোকে সরকারি বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে অনুসরণের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ, ডিজিটাল অর্থনীতি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নকে একই রূপান্তর কৌশলের আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিশেষায়িত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড চেইন সংরক্ষণাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।