সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ৯টি ইয়াবা সেবনের দাবি পুলিশের, কিন্তু ডোপ টেস্টে শরীরে মেলেনি মাদকের অস্তিত্ব!
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ এক পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্ট প্রতিবেদন নেতিবাচক (নেগেটিভ) এসেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। অর্থাৎ তাদের পরীক্ষার নমুনায় কোনো প্রকার মাদকের উপস্থিতি মেলেনি। এর আগে পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিল, খুন করার আগে-পরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মিলে ৯টি ইয়াবা সেবন করেছে। কিন্তু ডোপ টেস্টের ফলাফল পুলিশের সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আজ ৩১শে আগস্ট, সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। ডিবির ওই কর্মকর্তা জানান, আসামিদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে রোববার কারাগারের ফটক থেকেই দুই আসামির শারীরিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সংগৃহীত ওই নমুনা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে রক্তে বা শরীরে ‘এমফিটামিন’ সহ কোনো প্রকার মাদকের অণুমাত্র অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এর আগে ৩০শে আগস্ট, রোববার দুপুর আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে ডিবি পুলিশের বিশেষ একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে উপস্থিত হয়ে আসামিদের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি শেষ করে। পরীক্ষা কার্যক্রমটি সঠিকভাবে পরিচালনা করার সুবিধার্থে পুলিশ দলটির সাথে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও তাঁর সহকারী যুক্ত ছিলেন। আসামিদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কারাগারের ভেতরেই যাতে নমুনা সংগ্রহ করা যায়, সে বিষয়ে অনুমতি চেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশ। কলেজ কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই মেডিকেল টিমের টেকনোলজিস্টকে সাথে নিয়ে কারাগারে গমন করে পুলিশের ওই তদন্তকারী টিম। উল্লেখ্য, গত ২২<ে আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার সহধর্মিণী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চাঞ্চল্যকর এই চার খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা দুজনেই আদালতের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ভয়ানক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা রুজু করেছিলেন।
