ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার ঘন্টা যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন আষাড়িয়ারচর ব্রিজে জরুরি সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ঢাকা অভিমুখী লেনে সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব ও তীব্র যানজট। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই স্থবিরতা শনিবার সকালেও বহাল থাকায় ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিরুন্নেছার ক্ষেত্রে। শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা রাত ৮টায় তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত ১১টায় অ্যাম্বুলেন্সটি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৌঁছানোর পর যানজটের কবলে পড়ে। একটানা চার ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর রাত ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আমিরুন্নেছা। ঘটনাস্থল ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আষাড়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকাগামী লেনে সংস্কারকাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে একটি লেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে এবং যানজট মহাসড়কের মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে পড়ে। আজ ২৯শে আগস্ট, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই যানজট পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল। ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী ‘সুরমা পরিবহন’-এর চালক রিপন মিয়া (৫৫) বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো এমন ব্যস্ততম মহাসড়কে যেকোনো ধরনের কাজের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকা উচিত। তীব্র গরমের মধ্যে বাসে বসে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা মারাত্মক শারীরিক কষ্টে ভুগছেন।” এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া অঞ্চলের ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম জানান, ব্রিজের ঢাকাগামী লেনের মেরামতের কারণে এই সাময়িক স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে। ভ্যাপসা গরমে আটকে থাকা যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, বলেন তিনি।
