রংপুরে শিক্ষক পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিবৃতি প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের

২৪ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (জুয়েল), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাঁদের দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র শোক, ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে (স্মারক নং BPUPTA/2026/65) এই হত্যাকাণ্ডকে শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, বরং রাষ্ট্রের নাগরিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি ভয়াবহ বার্তা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ দ্বিতলা ভবন থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০) এবং তাঁদের দুই সন্তানের ক্ষতবিক্ষত ও পচনশীল লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নিহতদের শরীরে আঘাত ও শ্বাসরোধের আলামত দেখে মনে করা হচ্ছে, দুই থেকে তিন দিন আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ঘরের ভেতরে চারজনকে হত্যা করে মালামাল লুট করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থল থেকে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র এলোমেলো এবং টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙাচোরা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিবৃতিতে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ উল্লেখ করে, দেশে ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং শিক্ষক সমাজের ওপর বহিষ্কার, হয়রানি, নির্যাতন ও হামলার ঘটনা ঘটেই চলেছে, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিচ্ছে। সংগঠনটি অবিলম্বে এসব ঘটনার কার্যকর প্রতিকার ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ কিংবা পরিচয়ের কারণে যেন কোনো অপরাধী দায়মুক্তি না পায়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সারাদেশে শিক্ষক, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, নারী, শিশু ও সাধারণ নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতির শেষাংশে সংগঠনটি জানায়, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার, প্রতিটি নির্যাতনের প্রতিকার এবং প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।