তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামে কৃষকবিদ্রোহ: গোডাউন ভেঙে নিল ১০ হাজার কেজি সার
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পাওয়ার ক্ষোভে এক ডিলারের গোডাউনের দরজা ভেঙে প্রায় ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন কৃষকেরা। রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য, রোববার সকাল থেকেই সার নিতে ওই ডিলার পয়েন্টে দুই শতাধিক কৃষক জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিলার পয়েন্টের দরজা না খোলায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে কৃষকেরা গোডাউনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুদ্দিন বলেন, গোডাউন থেকে ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মোট পরিমাণ ৯ হাজার ৮৫০ কেজি। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ওসি বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা। বিপরীতে মোট বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে উত্তোলনও হয়েছে আরও কম। তার ভাষ্য, ডিলার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার দিতে গড়িমসি করছিলেন। এতে কৃষকদের মধ্যে সার না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই তারা গোডাউন ভেঙে সার নিয়ে যান। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল ১ হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলেন। ঘটনার সময় তার গোডাউনে ৩৪০ বস্তা সার মজুত ছিল। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, ভূরুঙ্গামারীতে সারের কোনো সংকট নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, আগস্ট মাসে উপজেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ টন। সেই পরিমাণ সার তারা পেয়েছেন এবং বিতরণও চলছে। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘কৃষকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। কৃষকেরা আতঙ্কে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।’ তিনি বলেন, কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে এবং সার নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য তাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে। লুট হওয়া বাকি সার উদ্ধারেরও চেষ্টা চলছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ আতঙ্ক ছড়িয়ে গোডাউনের দরজা ভেঙে সার নিয়ে গেছে। কিছু সার উদ্ধার হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সরেজমিনে পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিএনপি আমলে সার নিয়ে কৃষক আন্দোলনের নজির বাংলাদেশে সার নিয়ে কৃষকের ক্ষোভ ও আন্দোলনের পুরোনো ইতিহাস রয়েছে। বিএনপির শাসনামলে ১৯৯৫ সালের মার্চে বোরো মৌসুমে সারের তীব্র সংকটকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা বিক্ষোভে নামেন। সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়া, সার ও কৃষি উপকরণের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তখন ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। ওই সময় সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ১৮ কৃষক নিহত হওয়ার কথা সরকারি কৃষি তথ্য সার্ভিসের একটি প্রকাশনাতেও উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ১৫ই মার্চ ‘কৃষক হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
