গ্রামের রাস্তা মেরামতে ৮০টি কম্পিউটার, ৩০ লাখের সফটওয়্যার: পরামর্শকের ১৪ কোটি, লাগবে ১৪০টি বাইক-জিপ

২৩ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:০০ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান থাকলেও দেশের গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খারাপ রাস্তাঘাটের কারণে প্রান্তিক মানুষদের পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে এই সংকটকে পুঁজি করে সড়ক ও কালভার্ট সংস্কারের নামে ৫ হাজার কোটি টাকার এক বিতর্কিত প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত খরচের খাত বিশ্লেষণ করে বড় ধরনের শুভঙ্করের ফাঁকি ও দুর্নীতির সুযোগ দেখতে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রকল্প নথি অনুযায়ী, দেশের ৫,২২৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ৭,০০০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট পুনর্বাসনের এই কর্মসূচির বড় একটি অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে অস্বাভাবিক কাজের খাতে। এর মধ্যে কেবল ৫,০০০ কিলোমিটার পুরনো সড়ক সংস্কারের জন্যই ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,৮৯৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের পেছনেই খরচ হবে প্রায় ৮০ লাখ (পৌনে এক কোটি) টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে মূলত একটি নতুন সড়কই নির্মাণ করা সম্ভব। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, প্রকল্পটিতে প্রতি ১০ মিটার কালভার্ট মেরামতের আনুমানিক ব্যয় দেখানো হয়েছে সোয়া কোটি টাকা। রাস্তা ও কালভার্ট মেরামতের এই প্রকল্পে স্থান পেয়েছে অদ্ভুত সব কেনাকাটার বায়না। গ্রামে পুরনো রাস্তা সংস্কারের তদারকিতে কেনা হবে কোটি টাকার ৮০টি কম্পিউটার এবং ৩০ লাখ টাকার বিশেষ সফটওয়্যার। অন্যান্য ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানোর নিয়ম থাকলেও এই প্রকল্পের আওতায় ৭৭ কোটি টাকায় ৬৪টি রোড রোলার এবং ১৪০টি মোটরসাইকেল ও ২টি জিপ গাড়ি কেনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শুধু যানবাহন পরিচালনা ও মনিহারি সামগ্রীর জন্যই আবদার করা হয়েছে সাড়ে চার কোটি টাকা। আর এসব কাজ দেখাশোনার নামে পরামর্শকরাই ফি হিসেবে বুঝে নেবেন ১৪ কোটি টাকা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ জানান, “কম্পিউটার ও গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যে বরাদ্দ ধরা হয়েছে তা পুরোপুরি অস্বাভাবিক। বর্তমান সরকারের ঘোষিত কৃচ্ছ্রসাধন ও অর্থ সাশ্রয় নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী এটি। কথায় কথায় প্রকল্পে গাড়ি ও কম্পিউটার কেনার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সংস্থাগুলো মূলত সেটাকেই সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে।” চলতি অর্থবছরে শুরু হওয়া কোটি কোটি টাকার এই সংস্কার প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।