রাশিয়া থেকে গম আমদানি ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ, ব্যাখ্যা দিলো রুশ দূতাবাস

১৯ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক গম বাণিজ্য এবং কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে দেশীয় গণমাধ্যমের একাংশে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেছে ঢাকাস্থ রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাস। এক লিখিত বিবৃতিতে দূতাবাসের প্রেস উইং এসব প্রতিবেদনের বিস্তারিত জবাব দিয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষাপট দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, সরকার-থেকে-সরকার (জি টু জি) পর্যায়ে রাশিয়া থেকে গম আমদানিতে অনিয়মের অভিযোগ এবং জ্বালানি খাতে বড় দ্বিপাক্ষিক প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলে সম্প্রতি বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। দূতাবাস বলছে, এসব প্রতিবেদন দুই দেশের মধ্যকার সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অবদানকে খাটো করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছে বলে মনে করে তারা। এর প্রতিক্রিয়ায় দূতাবাস কিছু ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে। গম আমদানিতে স্বচ্ছতার দাবি বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, রাশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে গম সংগ্রহের সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মানদণ্ড মেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। আন্তঃসরকার কাঠামো চুক্তির আওতায় অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্থতাকারীর মূল্য নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করা হয়, কারণ চুক্তি বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে থাকে। রাশিয়া থেকে রপ্তানি করা সব কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি মান ও বাংলাদেশের নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুসারে কঠোর গুণগত মান পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায় বলেও দাবি করা হয় বিবৃতিতে। দূতাবাসের ভাষ্যমতে, সক্ষম রুশ রাষ্ট্রীয় পরিদর্শন সংস্থার সনদায়নের পরই কার্গো খালাস করা হয়, এবং চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর খাদ্য অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষ পুনরায় ভৌত ও গবেষণাগার পরীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাই করে। এই প্রক্রিয়ার কারণে নিম্নমানের বা ঝুঁকিপূর্ণ গম সরবরাহের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে দূতাবাস। গমের উৎস নিয়ে তোলা প্রশ্নকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যায়িত করে বলা হয়, রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন মেনে শুধুমাত্র নিজস্ব বৈধ কৃষি খাত থেকে সংগৃহীত গম রপ্তানি করে। জ্বালানি খাতে সহযোগিতার প্রসঙ্গ খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরে দূতাবাস বলেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম ও এর সহযোগী ঠিকাদাররা বিশ্বমানের প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করছে, যেখানে অননুমোদিত বহিরাগত হস্তক্ষেপ বা আর্থিক অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করা হয়। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে গ্যাজপ্রম ইপি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। ভোলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্যাজপ্রম এ পর্যন্ত ২০টির বেশি গ্যাসকূপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বলে দাবি করেছে দূতাবাস, যা দেশের জ্বালানি উৎপাদন ও শিল্প-বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সহায়ক হয়েছে বলে তাদের ভাষ্য। গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান বিবৃতির শেষাংশে রাশিয়া বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে বলে জানানো হয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেও ন্যায্য শর্তে বাংলাদেশকে মানসম্পন্ন কৃষিপণ্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞতা সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে দূতাবাস। বিবৃতিতে দেশের সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি পেশাদারিত্ব বজায় রেখে যাচাইকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানানো হয়, যাতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ থাকে। —রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাস, ঢাকার প্রেস উইং থেকে প্রাপ্ত বিবৃতির ভিত্তিতে