৩ মিনিটে ৯০০ কর্মী ছাঁটাইকারী সেই সিইও নিজেই এবার চাকরিচ্যুত

১৬ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

একটি মাত্র জুম কলে ৯০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা বিশাল গর্গ। এবার সেই গর্গকেই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে তার প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ। টাইম অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্স-এর বোর্ড আগস্টের শুরুতে গর্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তার জায়গায় অন্তর্বর্তী সিইও হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হেজ ফান্ড ম্যানেজার ড্যানিয়েল লুইস, যিনি বোর্ডে যোগ দেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই এই দায়িত্ব নেন। বোর্ড জানিয়েছে, গর্গকে অপসারণের সিদ্ধান্তে তিনি ছাড়া অন্য সব পরিচালক সর্বসম্মত ছিলেন। গর্গের “বিচক্ষণতা, আচরণ ও বিশ্বাসযোগ্যতা” নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ২০২২ সালের পর থেকে কোম্পানির ১৫০ কোটি ডলারের বেশি লোকসান এবং তার নেতৃত্বে শেয়ারের দাম ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে যাওয়ার বিষয়টিও সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিন মিনিটের জুম কলেই ৯০০ কর্মী ছাঁটাই: ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বড়দিনের ঠিক আগে গর্গ মাত্র কয়েক মিনিটের একটি জুম বৈঠকে ৯০০-এর বেশি কর্মীকে জানান, তাদের চাকরি তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দেয়। চাকরিচ্যুতির ধরন নিয়ে গর্গকে কর্পোরেট দুনিয়ায় কঠোর ও নির্মম ব্যবস্থাপনার প্রতীক হিসেবে দেখা শুরু হয়। তীব্র বিতর্কের পর গর্গ কিছু সময়ের জন্য ছুটিতে যান। তবে পরে আবার বেটারের সিইও হিসেবে ফিরে আসেন। প্রায় পাঁচ বছর পর তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, ওই ঘটনার কারণে বেটারের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গর্গের দাবি, প্রতিষ্ঠান ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল: তবে নিজের অপসারণের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি নন গর্গ। তার দাবি, তাকে সরানো হয়েছে ঠিক এমন সময়ে, যখন বেটার আবার ঘুরে দাঁড়ানোর পথে ছিল। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গর্গ দাবি করেন, কোম্পানির ঋণ বিতরণের পরিমাণ তিন গুণ হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, বেটারকে পুনর্গঠনের পর কোম্পানি এখন সাফল্যের খুব কাছাকাছি। নিজের অপসারণ প্রসঙ্গে গর্গ ড্যানিয়েল লুইসের বিরুদ্ধেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, লুইস প্রথমে কোম্পানির কৌশলের প্রশংসা করেছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক মন্তব্য করে বোর্ডে প্রবেশ করে পরিচালকদের আস্থা অর্জন করেছিলেন। ৮ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানির মূল্য এখন মাত্র ৩০ কোটি: একসময় বেটারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। করোনা মহামারির সময়ে রিফাইন্যান্সিং ব্যবসার উত্থানের সময় প্রতিষ্ঠানটির এই মূল্যায়ন হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কোম্পানিটির বাজারমূল্য নেমে এসেছে আনুমানিক ৩০ কোটি ডলারে। ২০২১ সালে বেটারের বার্ষিক বিক্রি ছিল প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। ২০২৩ সালে তা কমে মাত্র ৭ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। তবে গর্গের দাবি, ২০২৬ সালে কোম্পানির আয় ২০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এদিকে মর্টগেজ প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করতে প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ির মালিকদের জন্য হোম-ইকুইটি ঋণ ব্যবসাতেও সম্প্রসারণ করছে। বছরে মাত্র ১ ডলারে কাজ করার প্রস্তাব: সিইও পদ হারিয়েই থেমে থাকছেন না গর্গ। তাকে পুনরায় প্রধান নির্বাহীর পদে ফিরিয়ে আনতে তিনি একটি খ্যাতনামা আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছেন। এমনকি বেটার লাভজনক অবস্থায় না ফেরা পর্যন্ত তিনি বছরে মাত্র ১ ডলার বেতনে সিইও হিসেবে কাজ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন। গর্গের দাবি, বিশেষ ভোটাধিকারসম্পন্ন শেয়ার থাকা কিছু শেয়ারহোল্ডার তার পক্ষে রয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, গত ১০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার ক্ষেত্রে তার অবদান রয়েছে, তবে সবকিছু নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। গর্গ আশা করছেন, বিরোধের দ্রুত সমাধান হবে এবং বেটারের ভবিষ্যৎ এখনও উজ্জ্বল। কে এই বিশাল গর্গ?: ভারতে জন্ম নেওয়া বিশাল গর্গ বেড়ে উঠেছেন নিউইয়র্কে। তিনি নিউইয়র্কের স্টুইভেসান্ট হাই স্কুল এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অব বিজনেস থেকে পড়াশোনা করেছেন। এর আগে তিনি অনলাইন শিক্ষাঋণ প্রতিষ্ঠান MyRichUncle-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বেটার। তবে তার ব্যবসায়িক পরিচয়ের চেয়েও ২০২১ সালের সেই গণছাঁটাইয়ের ঘটনাই তাকে আন্তর্জাতিকভাবে বেশি পরিচিত করে তোলে।