চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকট ও লোডশেডিং: যানচলাচল ও রান্নাঘর থেকে শিল্পকারখানায় হাহাকার
মুষলধারে বৃষ্টির সাথে যোগ হয়েছে চরম গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট—সব মিলিয়ে অচল হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জনজীবন। সকাল থেকেই বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা ও গণপরিবহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে। প্রেসার না থাকায় বন্ধ রাখতে হচ্ছে পাম্পগুলো, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পুরো নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায়। সড়কে যানবাহনের তীব্র অপ্রতুলতার সুযোগে একশ্রেণীর চালক দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া দাবি করছেন। বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, কোতোয়ালি কিংবা মুরাদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও বাসের দেখা মিলছে না। অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা এই অস্বাভাবিক ভাড়ার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। চালকরা বলছেন, পাম্পে ৬-৭ ঘণ্টা অপেক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা চাইছেন তারা। জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব ছড়াবে গৃহস্থালি ও দেশের অর্থনীতিতেও • রান্নাঘরে হাহাকার: চুলায় নিভু নিভু গ্যাস থাকায় বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারে বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন গৃহিণীরা। • শিল্পকারখানায় ধস: রড, পোশাক ও স্টিল কারখানায় উৎপাদন ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। কাঙ্ক্ষিত গ্যাস না পাওয়ায় বিপুল লোকসানের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিল্প মালিকেরা। • বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ: গ্যাসের অভাবে রাউজান ও আনোয়ারার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে দিনভর দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে নাকাল নগরবাসী। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে দিনে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪৫.৭১ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামবাসীর এই দুর্ভোগ সহজে কাটছে না বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলা ও কেজিডিসিএলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
