ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাজ করে দালালেরা, কম্পিউটারের দোকানে টাকা দিলেই সব ঠিকঠাক
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বেড়েছে দালালের দৌরাত্ম্য। সেই সাথে চলছে সীমানাহীন ঘুষ, দুর্নীতি ও নানা অনিয়ম। বিশেষ করে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা ভূমি সেবাগ্রহীতরা পড়ছে চরম ভোগান্তিতে। এসব বিষয়ে ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের নিকট কোন সমাধান না পেয়ে দিনের পর দিন ফেরত যাচ্ছে সেবাগ্রহীতরা। এরপর বাধ্য হয়ে তারা ফিরে যাচ্ছে দালাল বা তৃতীয় পক্ষের কাছে। সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় ডাকবাংলা বাজারের বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে ও সাধুহাটি বাজার মোড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক দালাল সিন্ডিকেট। দালালদের বাড়তি টাকা দিলে সহজেই মেলে ভূমিসংক্রান্ত সেবা। প্রতিদিন ভূমি অফিসে দালালেরা অবাধে বিচরণ করে, অথচ প্রশাসন নির্বিকার। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ লেনদেনের ভাগ পান ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) সাইফুল ইসলাম নিজেই। এছাড়া নায়েবের বিরুদ্ধে জমির নামজারি, খাজনা, দাখিলা কাটা বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সময়মতো অফিস না করা, খাস জমির ডিসি আর কাটা বাবদ ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে গোবিন্দপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান,জমির নামপত্তন করার জন্য তিন দিন ধরে ঘুরছি কিন্তু নায়েব সাহেব সঠিক কোন তথ্য না দিয়ে কাগজের নানা সমস্যা দেখান। এরপর বাজারের এক কম্পিউটার দোকানে এক ছেলের কাছে ৩ হাজার টাকা দিয়ে আর কাগজপত্র জমা দিয়ে পাঠায় পরবর্তীতে সে ঠিক করে দেয়। অনুসন্ধানে উঠে আসে, স্থানীয় এক ব্যাক্তির জমি রেজিস্ট্রির জন্য দাখিলা কাটার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরাসরি যার দাখিলা- তিনি না এসে রেজিস্ট্রি অফিসের মুহুরিকে পাঠান অথচ নায়েব সাইফুল ইসলামকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে দাখিলা কেটে দিতে দেখা যায়। ভূমি অফিসের এরকম অপকৌশল ও অনিয়মের কারণে একাধিক ভুক্তভোগীরা হয়রানি শিকার হচ্ছে বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক বলেন, আমরা অনেকটা নিরুপায় দালাল এসে অফিসের সব কাজ করে দেয়, না দিলে হুমকি-ধমকি দেয়। গণমাধ্যমে এ নিয়ে লেখালেখি হলে দালালের উৎপাত কমবে বলে দাবি করে তিনি। দালালের দৌরাত্ম্য বিষয়ে উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি বেশকিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তবে আমি সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করছি। আপনারা (গণমাধ্যমকর্মীরা) একটু মন নরম করে চলেন মিলেমিশে তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে। এদিকে স্থানীয়রা ভূমি অফিসের এরকম অনিয়ম ও দালালের দৌরত্ব প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন ও সদর এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
