৮৩% জেন-জি কনটেন্ট তৈরি করছে

৪ আগস্ট, ২০২৬ | ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

কিছুদিন আগের কথা। কনটেন্ট তৈরি মানেই ছিল গুটি কয়েক ইউটিউবার বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের কাজ। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতার ধোঁয়াশা কেটেছে দ্রুত। কনটেন্ট তৈরি এখন শুধুই শখ নয়; বরং অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে এটি সম্মানজনক পেশার স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি নিজের দক্ষতার আত্মপ্রকাশের মাধ্যম ও আর্থিক স্বাধীনতার পথ তৈরি করে। ইউটিউব সূত্র বলছে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী জেন-জি প্রজন্মের ৮৩ শতাংশ নিজেদের ক্রিয়েটর বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তারা এখন শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার দর্শক নন; নিজেরাও ডিজিটাল দুনিয়ায় কিছু না কিছু নির্মাণ করছেন। দৃশ্যমান এই পরিবর্তনের পেছনে শুধু প্রযুক্তি নয়; বদলে যাওয়া মানসিকতাও কাজ করেছে। ছোট্ট শহরে স্বপ্নের বুনন সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো কনটেন্ট তৈরিতে এখন শুধু শহুরে প্রজন্ম নয়; বরং প্রান্তিক তরুণ-তরুণীরা কাজ করছে। নতুন প্রজন্মের ক্রিয়েটরের বড় অংশ শুধু শহর থেকে নয়; প্রান্তিক অঞ্চল থেকেও এতে অংশগ্রহণ বেড়েছে। তরুণরা যেখানেই থাকুক না কেন, তারা এখন ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজেদের জায়গা তৈরি করতে শিখেছেন। স্মার্টফোন, সুলভ ইন্টারনেট ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম ভৌগোলিক দূরত্বকে অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। ফলে সব দেশের স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও নিজের স্থানীয় অঞ্চলের গল্প নিয়ে সারাবিশ্বের দর্শকের কাছে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। কনটেন্ট ক্রিয়েশন সারাবিশ্বের জেন-জি প্রজন্মের কাছে কনটেন্ট তৈরি এখন আর শুধু শখের বিষয়বস্তু নয়। জানা গেছে, কনটেন্ট নিয়ে কাজ করা ৭৫ শতাংশ তরুণ ক্রিয়েটর একে ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার হিসেবে ভাবছেন। ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, রিলস বা শর্টস এখন শুধু বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি পৃষ্ঠপোষকতা, ব্যবসা ও আয়ের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। গবেষণা থেকে জানা গেছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তাদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনে সহায়ক– এমন ধারণা ৫৫ শতাংশ ক্রিয়েটরের। কনটেন্ট তৈরি অনেকের কাছেই এখন নিয়মিত আয়ের উৎস ও ক্যারিয়ারের অংশ। সাড়াজাগানো মঞ্চ আয়ের উৎস হিসেবে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে এখনও সবার থেকে এগিয়ে ইউটিউব। গবেষণা বলছে, ৯০ শতাংশের বেশি জেন-জি প্রজন্মের ক্রিয়েটর নিজেদের ভাবনা, প্রতিভা বা জ্ঞান প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ইউটিউবকে সামনে আনে। বিশেষ করে আঞ্চলিক ভাষার কনটেন্টের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। ছোট্ট শহরের ক্রিয়েটররা নিজেদের ভাষায় ভিডিও তৈরি করছে; স্থানীয় সংস্কৃতি বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করছে। আর সেসব কনটেন্ট দর্শকপ্রিয়তা পাচ্ছে দেশ-বিদেশে। নারীর জীবনে সাফল্য সারাবিশ্বে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নারীর উপস্থিতি দ্রুত বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই বছরে ইউটিউবে নারী ক্রিয়েটরের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে। কর্মক্ষেত্র হিসেবে নারীর এ ক্ষেত্রে নিরাপদ কর্মসংস্থান হয়েছে। ফ্যাশন বা বিউটির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা, ভ্রমণ, রান্না, ভ্লগিং, ব্যক্তিগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা– এসব নানা বিষয়েই তারা অবিরাম কনটেন্ট তৈরি করছেন। ফলে ডিজিটাল দুনিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ হয়েছে বৈচিত্র্যময়। আগামীর কর্মদক্ষতা হাল সময়ে এমন পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ বুঝেই বিশ্বের অনেক দেশের সরকার ডিজিটাল কনটেন্ট ইকোসিস্টেমে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে অনেক দেশের সরকার এভিজিসি (অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং ও কমিকস) কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব তৈরির পরিকল্পনা করেছে। জানা গেছে, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল কনটেন্ট, অ্যানিমেশন, গেমিং ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস শিল্পের ভবিষ্যতের জন্য সুদক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এতে। দায়িত্ব বাড়ছে জেন-জির কনটেন্ট তৈরির প্রক্রিয়া যতটা সহজ হচ্ছে, দায়িত্বও বাড়ছে ঠিক সেভাবে। বিশেষজ্ঞরা আগাম সতর্ক করে বলেছেন, অপতথ্য, অ্যালগরিদমের বাড়তি চাপ ও সবার মধ্যে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা ক্রিয়েটরদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে হলে শুধু বেশি ভিউ বাণিজ্য নয়; মৌলিকতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়িত্বশীল কনটেন্টই পূরণ করতে পারে ভবিষ্যতের চাহিদা। হতে পারে টিকে থাকার প্রধান শর্ত। ডিজিটাল ভবিষ্যতের নতুন মুখ দৃশ্যমান এমন পরিবর্তন শুধু কয়েকজন জনপ্রিয় ইউটিউবারের সাফল্যের গল্প নয়। এটি এমন এক প্রজন্মের গল্প; যারা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়কে ডিজিটাল মাধ্যমে বিশ্বদরবারে সদর্পে ও সগর্বে উপস্থাপন করছে। কনটেন্ট তৈরি এখন অনেকের কাছে আর বিকল্প পেশা নয়; অনেকাংশের কাছে এটি ভবিষ্যতের অন্যতম সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্র। ঠিক সে কারণেই ক্রিয়েটর ইকোনমি আগামী দিনে সারাবিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতির চালিকাশক্তির তকমা পাবে– এমনটাই বলছেন ডিজিটাল গবেষক ও বিশ্লেষকরা।