সিভিল সার্জনদের নিয়োগে শর্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীরঃ দিতে হবে ই-জিপি ও ডিডিও পাসওয়ার্ড!
সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো খাতের ঠিকাদারি কাজ থেকে শুরু করে মেডিক্যালের সরঞ্জাম ও ওষুধ সাপ্লাইয়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘আদাজল খেয়ে’ মাঠে নেমেছেন। একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে সিভিল সার্জন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের কাছ থেকে ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) পাসওয়ার্ড এবং ডিডিও (ডেপুটি ডিরেক্টর অফ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) পাসওয়ার্ড দেয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোকজনের মাধ্যমে সিভিল সার্জন পদপ্রার্থীদের কাছে বার্তা পাঠানো হচ্ছে যে, সকল টেন্ডারের ই-জিপি ও সিটি অ্যাক্সেস মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। যেসব সিভিল সার্জন এই শর্তে রাজি হননি, তাদেরকে নানা অজুহাতে বকাঝকা ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর যার উক্ত শর্তে রাজী হয়েছেন, তারাই শুধুমাত্র সিভিল সার্জন নিয়োগে বিবেচিত হচ্ছেন বলে অভ্যন্তরীন সুত্র গুলো থেকে জানা গেছে। হয়রানির শিকার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডি ডাইজেস্টকে বলেন, “সরকারি হাসপাতালের মেডিক্যাল সাপ্লাইয়ের মতো স্পর্শকাতর খাতকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য এই ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। যারা এতে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ তুলে চাপ দেওয়া হচ্ছে।” কিন্তু মেডিক্যাল সাপ্লাই খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইজিপি সাইটের পাসওয়ার্ড নিতে চাপ দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিশ্বস্ত লোকেদের হাতে সকল মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট সাপ্লাই ও ঔষধ সাপ্লাইয়ের মতো হাজার কোটি টাঁকার বাণিজ্য তুলে দেয়া। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদারি কাজে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার এই অভিযোগ সামনে আসায় স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মন্ত্রীর এ মিশন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। যদিও সাখাওয়াত হোসেন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বারবার বলেছেন যে, মন্ত্রণালয়ে কোনো সিন্ডিকেট চলবে না এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য জানতে তাকে ফোন করা হলে এবং হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দেওয়া হলেও তিনি কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
