অপহরণ-হত্যাচেষ্টা, ফটিকছড়ি জামায়াত আমির-সেক্রেটারিসহ ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির, সাবেক আমির ও সেক্রেটারিসহ ১০ নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ২২শে জুলাই, বুধবার ফটিকছড়ি থানায় মামলাটি করেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৬৫, ৩৪২, ৫০৬(২), ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের সমর্থনে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া এবং জামায়াতের এক প্রার্থীর দায়ের করা একটি মামলার সমালোচনা করাকে কেন্দ্র করে গত ২০শে জুলাই উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে বাদীর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, পরে তাকে জোরপূর্বক উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় এবং হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এছাড়া রাত প্রায় ৩টার দিকে ছেড়ে দেওয়ার সময় ভবিষ্যতে এ ধরনের পোস্ট না দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন— ফটিকছড়ি পৌরসভা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন রুবেল, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের নেতা রেজাউল করিম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু, সাবেক আমির নাজিম উদ্দিন সিকদার, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইউছুপ বিন সিরাজ, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি আবু জাফর, পৌর জামায়াতের নেতা কাজী মোহাম্মদ লোকমান, মোহাম্মদ রায়হান ও মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “একটি সমাধানকৃত বিষয়কে সামনে এনে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট একটি মামলা করা হয়েছে। কাউকে অপহরণ, আটকে রাখা বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।” জামায়াত কার্যালয়ে নিয়ে মারধরের বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। এদিকে মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জামায়াতের একাংশের কর্মী-সমর্থকরা দাবি করেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং বিশেষ রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, অভিযোগে উল্লেখিত অপহরণ, আটকে রাখা বা হত্যাচেষ্টার মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ফটিকছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, “ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির, সাবেক আমির, সেক্রেটারিসহ ১০ নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। দোষীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
